সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রুক নিজেই আইপিএলে না খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত মৌসুমে দিল্লি ক্যাপিটালস তাঁকে ৪ কোটি রুপিতে দলে নিলেও দাদির মৃত্যুর কারণে তিনি খেলতে পারেননি। এবার সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত মেগা নিলামে ৬ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে তাঁকে আবারও দলে ভেড়ায় দিল্লি ক্যাপিটালস। তবে আসন্ন ১৮তম আইপিএল শুরুর মাত্র ১২ দিন আগে তিনি সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
২০২৫ আইপিএলে অংশ না নেওয়ার কারণ হিসেবে ব্রুক জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ব্যর্থতার পর অধিনায়ক জস বাটলার পদত্যাগ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ব্রুক সাদা বলের দুই সংস্করণের অধিনায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। জাতীয় দলের সঙ্গে তাঁর কেন্দ্রীয় চুক্তি এবং টেস্ট দলের সদস্য হিসেবে কাজের চাপ সামলাতেই তিনি আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিদেশি খেলোয়াড়দের আইপিএল থেকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। গত মৌসুমে জেসন রয় এবং দুই পেসার মার্ক উড ও গাস অ্যাটকিনসনও নিজেদের ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে একই কাজ করেছেন।
বিদেশি খেলোয়াড়দের এমন কর্মকাণ্ড রোধে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কঠোর নীতি প্রণয়ন করেছে। কোনো বৈধ কারণ ছাড়া আইপিএলে না খেললে দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। ব্রুকের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার পর তাঁর বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। নিষিদ্ধ হলে তিনি ২০২৬ ও ২০২৭ মৌসুমেও আইপিএল খেলতে পারবেন না।
ব্রুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আমাকে। দিল্লি ক্যাপিটালস এবং তাদের সমর্থকদের কাছে আমি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি ক্রিকেট ভালোবাসি এবং ছোটবেলা থেকেই আমার দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেছি। এই স্তরে ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।’
ব্রুকের এই সিদ্ধান্ত দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য বড় ধাক্কা হলেও বোর্ডের নীতিমালার কারণে ভবিষ্যৎ আইপিএল মৌসুমে তাঁর অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মন্তব্য করুন