প্রিন্সেস ডায়ানা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেমস হিউইটের মধ্যে পাঁচ বছরের সম্পর্ক এক সময় ছিল প্রকাশ্য গোপন রহস্য। সম্প্রতি ৬৬ বছর বয়সী হিউইট ‘গুড মর্নিং ব্রিটেন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা আগের কোনো প্রতিবেদনে উঠে আসেনি।
১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ডায়ানা ও হিউইটের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ঘোড়া চালানোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। ডায়ানা একসময় হিউইটকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিশ্বাস করতেন। ১৯৯৫ সালে বিবিসি’র ‘প্যানোরামা’ সাক্ষাৎকারে তাঁদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আসে। এর জেরে হিউইটের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন ভেঙে পড়ে।
হিউইটের বক্তব্য অনুযায়ী, ডায়ানা সব সময় তাঁর দুই সন্তান প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত থাকতেন। তিনি বলেছিলেন, “মায়ের জন্য সন্তানদের সম্পর্ক ভাঙনের শঙ্কা দুশ্চিন্তার বিষয়। ডায়ানা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন যেন তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকে।”
ডায়ানা ও হিউইটের সম্পর্ক নিয়ে একটি দীর্ঘদিনের গুজব ছিল—হিউইট নাকি প্রিন্স হ্যারির আসল বাবা। এই গুজবকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হিউইট। প্রিন্স হ্যারি নিজেও তাঁর স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’-এ গুজবকে “হাস্যকর ও মানসিক বিকারগ্রস্তদের কল্পনা” বলে অভিহিত করেছেন।
বিবিসি’র সেই সাক্ষাৎকারের পর হিউইটকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার বুলিং, নেতিবাচক মন্তব্য ও কটাক্ষ সহ্য করতে হয়েছিল। তিনি বলেন, “মিডিয়া আমাকে ‘লাভ র্যাট’ হিসেবে আখ্যা দেয়। চাকরি হারাই, সুনাম ধ্বংস হয় এবং আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি।”
হিউইট জানান, ডায়ানা ছিলেন একজন সত্যিকারের মানবিক ব্যক্তিত্ব। তবে তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে মিডিয়ার মনোযোগ ও নেতিবাচক প্রচার তাঁদের দুজনের জীবনকেই জটিল করে তুলেছিল। তিনি আরও বলেন, “বিবিসি’র সাক্ষাৎকারের আগে ডায়ানাকে প্রশ্নগুলো জানানো হয়েছিল, কিন্তু অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণই ভিউ ও বিতর্ক তৈরির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।”
বহু বছর লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর হিউইট বর্তমানে ইউক্রেনে যুদ্ধাহতদের পুনর্বাসনে কাজ করছেন। রাজকীয় জীবনের আলোচনার বাইরে থেকে তিনি এখন মানবিক কাজের মাধ্যমে জীবনের মানে খুঁজছেন।
প্রিন্সেস ডায়ানার জীবনের এই অধ্যায় তাঁর মানবিকতা ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের এক গভীর প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে, যা এখনো বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করে চলেছে।
মন্তব্য করুন