নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা গ্রেপ্তার করেছেন। এই শিক্ষার্থী, মাহমুদ খলিল, যিনি ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁকে গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসভবন থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সদস্যরা আটক করেন।
গ্রেপ্তারের পটভূমি
মাহমুদ খলিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের একজন শিক্ষার্থী। তিনি মার্কিন নাগরিক এক অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর স্বামী এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের গ্রিন কার্ডধারী।
স্টুডেন্ট ওয়ার্কার্স অব কলাম্বিয়া ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে জানায়, মাহমুদের গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি এবং মানবাধিকারের ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ও গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের হামাস কর্তৃক ইসরায়েলে হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইসরায়েলবিরোধী ও ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। মাহমুদ খলিল এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং নিজ আন্দোলনকে যুদ্ধবিরোধী হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি বলেছিলেন, “আমাদের লক্ষ্য ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো, যেখানে ইহুদি ছাত্রসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রে শামিল।”
ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি এবং গ্রেপ্তারের তাৎপর্য
মাহমুদের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর, ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারে বলেছিলেন যে, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করবেন। এই আন্দোলনকে তিনি ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
আন্দোলনের গুরুত্ব ও প্রতিক্রিয়া
মাহমুদ খলিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের পক্ষে অন্যতম মুখপাত্র ছিলেন। তাঁর গ্রেপ্তার শুধু কলাম্বিয়া নয়, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীন মত প্রকাশের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থী ও অধিকার কর্মীরা মাহমুদের মুক্তির দাবি তুলেছেন এবং এই গ্রেপ্তারকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছেন।
মাহমুদের গ্রেপ্তার এবং ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের এই পরিস্থিতি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার রক্ষায় প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে।
মন্তব্য করুন