কানাডার জনগণের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতি ক্ষোভ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। এর প্রভাব পড়ছে মার্কিন পণ্য ও কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়। স্থানীয় ক্রেতাদের বর্জনের কারণে কানাডায় মার্কিন কৃষিপণ্য, মাংস, পানীয় ও বিলাসবহুল পণ্যের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুল্ক সংকট এবং ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি কানাডার পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখলেও কানাডার বাজারে এর আগের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মার্কিন পানীয়, বিশেষত বিখ্যাত হুইস্কি ব্র্যান্ড জ্যাক ড্যানিয়েলস, কানাডার বিপণিবিতানগুলোর তাক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্রাউন ফরম্যানের প্রধান নির্বাহী লসন হুইটিং জানিয়েছেন, কানাডায় জ্যাক ড্যানিয়েলস বিক্রির মাত্র ১ শতাংশ হলেও, এটি ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ওয়াইন শিল্পের উদ্বেগ
কানাডায় প্রতি বছর ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওয়াইন বিক্রি হয়, যা মার্কিন ওয়াইন শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। তবে কানাডার ক্রেতারা মার্কিন ওয়াইন বর্জন করলে ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়াইন শিল্প বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ওয়াইন ইনস্টিটিউটের সিইও রবার্ট পি কচ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এমন সময় শুল্ক নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যখন ওয়াইন শিল্প ইতোমধ্যেই বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
বয়কটের ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য
কানাডার মার্কিন পণ্য বর্জনের ফলে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো লাভবান হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোলগেট টুথপেস্ট বর্জন করলে গ্রিন বেভার নামের কানাডীয় ব্র্যান্ড বেশি বিক্রি করতে পারে। তবে কোলগেট-পালমোলিভের মতো বৃহৎ কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক ব্যবসার পরিমাণ এতটাই বড় যে, একটি দেশের বর্জনের কারণে তাদের সামগ্রিক ব্যবসায় খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।
মার্কিন কোম্পানির শঙ্কা
কিয়ার্নি পরামর্শক সংস্থার জ্যেষ্ঠ অংশীদার গ্রেগ পর্টেলের মতে, এই বাণিজ্য উত্তেজনা এবং ক্রেতাদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া মার্কিন কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “যে কারণে বিক্রি বন্ধ হচ্ছে তা যদি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণের বাইরে হয়, তাহলে তা আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে।”
বাণিজ্যযুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কানাডার এই বর্জন এককভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব ফেলবে না। তবে যদি অন্যান্য দেশও একযোগে একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় বা শুল্ক বাড়ায়, তাহলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ক্ষতির পরিমাণ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে দুই দেশের এই উত্তেজনা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও কানাডার জনগণের এই প্রতিক্রিয়া মার্কিন ব্র্যান্ডগুলোর জন্য সতর্কবার্তা। একদিকে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো এ থেকে লাভবান হতে পারে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন