জেডি ভ্যান্স, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট, সাধারণ কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন। ওয়াশিংটনের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে কাজ করা ডিক চেনির মতো নীরব নায়কদের বিপরীতে ভ্যান্স একজন প্রকাশ্য ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ড তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
ভ্যান্সকে অনেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে দেখেন। এক সময় ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক থাকলেও, আজ ভ্যান্স তাঁর সবচেয়ে বিশিষ্ট প্রকাশ্য সমর্থকদের একজন। রিপাবলিকান পার্টির জনতুষ্টিবাদী ধারা ও ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির সঙ্গে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতিতে ভ্যান্সের অবস্থান চ্যালেঞ্জিং। সম্প্রতি ইউক্রেন সংকট নিয়ে ভ্যান্সের মন্তব্য আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ভ্যান্সের আক্রমণাত্মক ভূমিকা একটি কূটনৈতিক সংকটের সূচনা করে। এর আগেও জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি ভ্যান্সের কঠোর সমালোচনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক উসকে দেয়।
ভ্যান্স একজন সাবেক মেরিন সেনা, আইভি লিগের স্নাতক, এবং সিলিকন ভ্যালিতে সফল উদ্যোক্তা। তাঁর শৈশবের স্মৃতিকথা ‘হিলবিলি এলিগি’ তাঁকে সবার নজরে আনে। বইটি ট্রাম্পের সমর্থক শ্রেণির মনোভাব বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। ৪০ বছর বয়সী ভ্যান্স আজ রিপাবলিকানদের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে বিবেচিত।
একসময় ট্রাম্পকে “হাঁদারাম” বলে কটাক্ষ করেছিলেন ভ্যান্স। এমনকি ট্রাম্পের তুলনা করেছিলেন হিটলারের সঙ্গে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় তাঁর অবস্থান বদলেছে। রিপাবলিকান দলের দিকনির্দেশনা বুঝে, তিনি এখন ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
ভ্যান্সকে ট্রাম্পের উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখা হলেও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মজা করে তা নাকচ করেছেন। তাঁর মতে, সিংহাসন ছাড়ার মতো কোনো পরিকল্পনা এখনই নেই। তবু ভ্যান্সের বয়স, দক্ষতা এবং প্রভাব তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে তুলে ধরেছে।
জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একথা নিশ্চিত, তাঁর প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হবে।
মন্তব্য করুন