অস্ট্রেলিয়ার রক্তদানে কিংবদন্তি হয়ে ওঠা জেমস হ্যারিসন, যিনি ‘গোল্ডেন আর্ম’ নামে পরিচিত, আর নেই। ১৭ ফেব্রুয়ারি, নিউ সাউথ ওয়েলসের একটি নার্সিং হোমে ঘুমের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
জেমস হ্যারিসন ১৮ বছর বয়স থেকে শুরু করে ৮১ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি দুই সপ্তাহে প্লাজমা দান করে গেছেন। এভাবে তিনি প্রায় ২০ লাখ শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন। তার রক্তে থাকা বিরল অ্যান্টিবডি ‘অ্যান্টি-ডি’ বিশেষভাবে গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হতো।
রক্তদানের সূচনা
মাত্র ১৪ বছর বয়সে বুকের অস্ত্রোপচারের সময় ব্যাপক রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে নিজের জীবন রক্ষা পাওয়ার পর, হ্যারিসন রক্তদাতা হওয়ার সংকল্প করেন। এরপর ১৮ বছর বয়সে তিনি প্লাজমা দান শুরু করেন। তার এই মানবিক যাত্রা ২০০৫ সালে সর্বাধিক প্লাজমা দানের বিশ্ব রেকর্ড এনে দেয়।
অ্যান্টি-ডি ও মানবতার সেবা
জেমস হ্যারিসনের রক্তে থাকা অ্যান্টিবডি, অ্যান্টি-ডি, ভ্রূণ ও নবজাতকের হেমোলাইটিক ডিজিজ (এইচডিএফএন) থেকে অসংখ্য শিশুকে রক্ষা করেছে। ১৯৬০-এর দশকে অ্যান্টি-ডি চিকিৎসা চালু হওয়ার আগে এই রোগে আক্রান্ত প্রতি দুই শিশুর একজন মারা যেত। হ্যারিসনের অবদান অসংখ্য মায়ের গর্ভস্থ সন্তানকে সুস্থভাবে পৃথিবীতে আসতে সাহায্য করেছে।
পরিবারের গর্ব
তার মেয়ে ট্রেসি মেলোশিপ বলেন, “বাবা সবসময় বলতেন, এটি কষ্টের কাজ নয়। এটি এমন এক জীবন বাঁচানোর বিষয়, যা হয়তো একদিন আপনার নিজের জীবনও হতে পারে।” তার দুই নাতি-নাতনিও অ্যান্টি-ডি ইনজেকশনের সুবিধাভোগী।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
অস্ট্রেলিয়ান রেড ক্রস ব্লাড সার্ভিস এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে হ্যারিসনের রক্ত ও কোষের প্রতিলিপি তৈরি করে পরীক্ষাগারে অ্যান্টি-ডি অ্যান্টিবডি উৎপাদনের চেষ্টা চালাচ্ছে। গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এটি গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসায় বৈশ্বিক পরিবর্তন আনবে।
লাইফব্লাডের গবেষণা পরিচালক ডেভিড আরভিং বলেন, “পর্যাপ্ত ও কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরির জন্য উপযুক্ত রক্তদাতা পাওয়া কঠিন। কিন্তু হ্যারিসনের মতো মানুষ আমাদের জন্য এক অনুপ্রেরণা।”
জেমস হ্যারিসন তার মহৎ কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে গেছেন, মানুষের জীবন বাঁচাতে সামান্য প্রচেষ্টাও কতটা মূল্যবান হতে পারে। তার স্মৃতি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।