কিডনি আমাদের শরীরের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা জীবনযাপনের জন্য অত্যাবশ্যক। তবে, এই অঙ্গটির রোগ অনেক সময় লক্ষণ প্রকাশ করতে বিলম্ব করে, ফলে অনেকে অবহেলায় তা বৃদ্ধি পায়। কিডনি রোগ পৃথিবীজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম কারণ, আর বাংলাদেশেও এই রোগের হার বেড়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ শতাংশ কিডনি ক্ষতি না হওয়ার আগে রোগের লক্ষণ ধরা পড়ে না, যার কারণে এটি একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত।
কিডনির মূল কার্যাবলি
কিডনির প্রধান কাজ হল শরীরের রক্ত পরিশোধন এবং দূষিত বর্জ্য অপসারণ করা। কিডনি প্রতিদিন প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ লিটার রক্ত পরিশোধন করে এবং ১.৫ থেকে ২ লিটার বর্জ্য শরীর থেকে বের করে দেয়। এটি শরীরের অপ্রয়োজনীয় পানি, লবণ এবং অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান মুছে ফেলতে সাহায্য করে।
কিডনি রোগ: কারণ ও লক্ষণ
বিশ্বজুড়ে কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হল ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ। বাংলাদেশে কিডনি রোগের অন্যতম কারণ হলো নেফ্রাইটিস এবং পাথর, যা কিডনির কার্যক্ষমতা বাধাগ্রস্ত করে। এছাড়া, কিছু ক্ষেত্রে ভুলভাবে চিকিৎসা গ্রহণ কিংবা অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ সেবন কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
কিডনি রোগের লক্ষণগুলো সাধারণত ৫০% পর্যন্ত কিডনি অকেজো না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ পায় না। তারপরও, কিছু সাধারণ লক্ষণ যেমন শরীর ফুলে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা রঙ পরিবর্তন, ক্ষুধামন্দা, বমি, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি দেখা যায়।
প্রতিরোধে করণীয়
কিডনি রোগ প্রতিরোধে প্রথমেই ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, বিশেষ করে ৪০ বছরের পর একবার কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত। এছাড়া, কোনো ব্যথার ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়। আর, ডায়রিয়া ও বমির মতো অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত যাতে শরীরের পানি শূন্যতা না হয়।
কিডনি রোগের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ কিডনির কার্যক্ষমতা রক্ষা করতে সহায়ক হতে পারে। যদি উপসর্গগুলো দেখা দেয়, তবে বিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।