চোখের মাংস বৃদ্ধি বা টেরিজিয়াম হলো কনজাংটিভা থেকে কর্ণিয়ার দিকে ত্রিভুজাকৃতির আবরণ সৃষ্টি হওয়া, যা চোখের কোণে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে কর্ণিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই অবস্থা চোখের প্রাকৃতিক দৃষ্টিশক্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং যদি টেরিজিয়াম কর্ণিয়ার কেন্দ্র পর্যন্ত চলে যায়, তবে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে পারে।
লক্ষণ ও উপসর্গ
টেরিজিয়ামের প্রধান লক্ষণগুলো হল চোখে ব্যথা, লালভাব, চুলকানি, চোখে কিছু অনুভব হওয়া, ঘোলাটে দৃষ্টি এবং চোখ থেকে পানি পড়া। এসব লক্ষণ যখন পরিলক্ষিত হয়, তখন সতর্ক হওয়া জরুরি।
কারণ
গবেষণায় জানা গেছে, অতিরিক্ত সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির সংস্পর্শে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে এ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে গরম, শুষ্ক আবহাওয়া এবং ধূলিবালি, ধূমপান বা ঝড়ো হাওয়ার পরিবেশে যারা কাজ করেন, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
চিকিৎসা পদ্ধতি
প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত ওষুধ ব্যবহার করা হয়, এবং কিছু রোগী ওষুধে ভাল হয়ে যান। তবে কিছু ক্ষেত্রে যেমন, অ্যাট্রোপিক বা ডিজেনারেটেড টেরিজিয়াম এবং সিউডোটেরিজিয়ামে কোনো চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না, কেবল পর্যবেক্ষণ চলতে থাকে। তবে, প্রগ্রেসিব টেরিজিয়াম (যেখানে রোগটি বাড়তে থাকে) এর জন্য একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা হল অস্ত্রোপচার।
টেরিজিয়াম অপারেশন দুটি পদ্ধতিতে করা হয়:
অতএব, চোখে মাংস বৃদ্ধি হলে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত, কারণ চিকিৎসা নিয়ে দেরি করলে অস্ত্রোপচার পরেও ফলাফল সুখকর নাও হতে পারে।
মন্তব্য করুন