লেবুর উর্বর ভূমি হিসেবে পরিচিত সিলেট, যা ‘লেবুর দেশ’ নামে খ্যাত। তবে এবার রমজান মাসে চাহিদা অনুযায়ী লেবুর সরবরাহ না থাকায় দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ইফতারি এবং রান্নায় লেবুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাজারে লেবুর দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
বাজারের পরিস্থিতি
সিলেটের বিভিন্ন বাজারে ছোট লেবুর হালি ৮০-১০০ টাকা, মাঝারি আকারের লেবু ১০০-১৫০ টাকা, এবং জারা লেবুর দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অথচ মাত্র ১০ দিন আগে এগুলো প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি হয়েছে।
সিলেটের বন্দরবাজারে লেবু কিনতে আসা মহিতুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে লেবু কয়েক দিন আগেও ৮ টাকায় পেয়েছি, এখন তার দাম ৩০ টাকা। এভাবে হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই।”
উৎপাদন ও সরবরাহ
সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে ৫৩১ হেক্টর জমিতে মোট ৪,৪৩৯ টন লেবু উৎপাদিত হয়েছে। সিলেটে মোট লেবুর বাগানের সংখ্যা ১,৪৫৭, যার মধ্যে ৮২৫টি জারা লেবুর এবং ৬৩২টি অন্যান্য জাতের। তবে মৌসুম শেষ হওয়ায় লেবুর সরবরাহ কমে গেছে।
গোলাপগঞ্জের আলভীনা গার্ডেনের মালিক মো. আবদুর রব জানান, তিনি বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ২০০টি সিডলেস লেবু বিক্রি করতে পারছেন। আগে যে লেবু প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন, এখন সেই লেবু ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রশাসনের উদ্যোগ
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বাজারে লেবুর উচ্চমূল্যের বিষয়ে বলেন, “বাজার পরিদর্শন করেছি। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেউ যদি অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ায়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্লেষকদের মতামত
সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান বলেন, “লেবুর মৌসুম শেষ হয়েছে ঠিকই, তবে সিডলেস লেবু এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। দাম এতটা বেড়ে যাওয়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি প্রয়োজন।”
এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের তৎপরতা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যথাযথ পরিকল্পনা ও বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্রেতাদের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছে।