রমজানের প্রথম দিনেই রাজধানীর পুরান ঢাকা, চকবাজারের ইফতার বাজারে দেখা যায় ভিড়। রোববার (২ মার্চ) সকাল থেকে শুরু হয় এই বাজারের জমজমাট পরিবেশ, যেখানে দোকানিরা শাহী মসজিদের সামনে নানা ধরনের ইফতারি সাজিয়ে বসেন। হাজারো মানুষ ইফতার কেনার জন্য এখানে ভিড় করেছেন, যার ফলে সেখানে একেবারে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
ক্রেতারা জানাচ্ছেন, ইফতারির দাম গত বছরের মতোই রয়েছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, তেল, মসলা এবং মাংসের দাম বেড়েছে, তাই দাম কমানোর সুযোগ হয়নি, তবে গত বছরের দামেই বিক্রি করছেন তারা। পুরো বাজার জুড়ে ভিড়ের মধ্যে বিক্রেতারা তাদের পণ্য বিক্রি করতে ব্যস্ত ছিলেন। বিশেষত, চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতারি ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’ ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এটি কিনতে অনেক ক্রেতা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন।
বাজারে বিক্রি হচ্ছে নানা ধরনের মাংস, কাবাব, সাসলিক, পরোটা, জিলাপি, হালিমসহ অসংখ্য মুখরোচক খাবার। গরুর সুতি কাবাব প্রতি কেজি ১২০০ টাকা এবং খাসির কাবাব ১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন ধরনের রোল, কাবাব, এবং মিষ্টি খাবারও বিক্রি হচ্ছে। পানীয় হিসেবে শরবত, মাঠা, বোরহানি, লাবাং ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে।
তাসনিম আক্তার, একজন শিক্ষিকা, বলেন, “চকবাজারের ইফতারির স্বাদ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না, তাই প্রতি বছর প্রথম রমজানে এখান থেকে ইফতারি কিনতে আসি।” তিনি আরও বলেন, “বড় বাপের পোলায় খায় ঠোঙা ভইরা লইয়া যায় আমার পছন্দের ইফতারি।” তবে তিনি দাম নিয়ে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন, কারণ তিনি আশা করেছিলেন দাম কমে যাবে, কিন্তু তা হয়নি।
বিক্রেতারা জানান, এবারের বাজারে তেল, মসলা এবং মাংসের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ফলে তাদের জন্য দাম কমানো সম্ভব হয়নি। তবে তারা গত বছরের দামই রেখেছেন।
চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতার বাজারে বিক্রেতারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন। মো. হারুন নামে এক বিক্রেতা জানান, “এবারের ভিড় আগের চেয়ে কিছুটা কম, কিন্তু এর পরও বাজারের পরিবেশ চমৎকার।”
পুরান ঢাকার চকবাজারে রমজানের এই ইফতার বাজার এক ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ আসে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু ইফতারি কিনতে।