Bangla Webs
৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৮:১৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আসাদ সরকার পতনের মাস্টারমাইন্ড, কে এই জোলানি?

পতন হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদ সরকারের। বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে রবিবার ভোরে রাজধানী দামেস্ক ছেড়ে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশে পালিয়ে যান তিনি। এরপর দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ গাজি আল-জালালিও বিদ্রোহীদের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের দীর্ঘ ৫৪ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান হয়। পতন হয় বাশার আল-আসাদের ২৪ বছরের শাসনামলের।

মাত্র ১২ দিনেই অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করেন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)।

গত ২৭ নভেম্বর থেকে হঠাৎ করেই বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে দেশটির বিদ্রোহীরা। সেদিন থেকেই শুরু হয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) দ্বিতীয় বড় শহর আলেপ্পো দখল অভিযান।

এরপর অপ্রতিরোধ্য গতিতে হামা, দারা, হোমস ও রাজধানী দামেস্ক দখল করে নেন তারা। তাদের দ্রুত গতির অভিযান আসাদ, তার মিত্র এবং বাকি বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছে।

সিরিয়ায় এই বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) প্রধান আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি। ছোট ছোট আরও কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়ে তিনি জোট করেছেন। তবে এইচটিএস-ই সবচেয়ে দুর্ধর্ষ বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

কে এই জোলানি?

আবু মোহাম্মদ আল-জোলানির আসল নাম আহমেদ হুসাইন আল-শারা। ১৯৮২ সালে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। তখন তার বাবা সেখানে পেট্রোলিয়াম প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৮৯ সালে তার পরিবার সিরিয়ায় ফিরে আসে। দামেস্কের অদূরে বসতি স্থাপন করে।

২০০৩ সালে সিরিয়া থেকে ইরাকে এসে তিনি আল-কায়েদায় যোগ দেন। এই বছরই যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালায়। তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেন। তখন থেকে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে।

২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হাতে গ্রেফতার হন জোলানি, পাঁচ বছর পর ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় মুক্ত হন তিনি। কারামুক্ত হয়ে সিরিয়ায় আল-কায়েদার শাখা প্রতিষ্ঠা করেন জোলানি, যা আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত।

জোলানির কার্যক্রম

কারামুক্ত হয়ে ২০১১ সালে আল-কায়দার সরাসরি সহযোগী হিসেবে জাবহাত আল-নুসরা নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এইচটিএস গোষ্ঠী। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি।

প্রথম দিকের কয়েক বছর জোলানি বাগদাদির সঙ্গে কাজ করলেও ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে বাগদাদি আকস্মিকভাবে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেন। এরপর জোলানি সিরিয়ায় নিজেদের তৎপরতা বৃদ্ধিতে কাজ শুরু করেন।

২০১৬ সালের জুলাইয়ে বাশার সরকার আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ইদলিবের দিকে চলে যায়। ওই সময়টাতে জোলানি আল-নুসরা ফ্রন্টের নাম পরিবর্তন করে জাভাত ফাতেহ আল-শাম রাখেন। পরে বিদ্রোহীদের ছোট ছোট অনেক গোষ্ঠী ও নিজের জাভাত ফাতেহ আল-শাম নিয়ে এইচটিএস গঠন করেন জোলানি।

গোষ্ঠীটিকে প্রেসিডেন্ট আসাদ-বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর এবং প্রাণঘাতী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) ২০১৭ সালে সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠা করে। এর মাধ্যমে তারা দেশটির ইদলিবে প্রশাসন পরিচালনা শুরু করে। তবে অধিকারকর্মী, সংবাদ প্রতিবেদন ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্ট কঠোর হাতে শাসন করে, বিরোধীদের সহ্য করে না।

এইচটিএস মূলত ইদলিব কেন্দ্রিক ছিল এবং অনুমান করা হয় গোষ্ঠীটির প্রায় ৩০ হাজার যোদ্ধা রয়েছে। এই গোষ্ঠী মূলত স্ব-অর্থায়নে পরিচালিত হয়ে থাকে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের লড়াই

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের সূচনা ২০১১ সাল থেকে। সে সময় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সিরিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিল। প্রাথমিকভাবে তারা খানিকটা অগ্রসরও হতে পেরেছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে হামায় আসাদ সরকার বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়েন করে। শুরু হয় প্রবল গৃহযুদ্ধ। আসাদ সরকার বিদ্রোহীদের দমন করতে সমর্থ হয়। সে সময় আসাদ সরকারকে সবরকমভাবে সাহায্য করেছিল ইরান এবং রাশিয়া।

সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব অঞ্চল বিশেষ করে ইদলিব এলাকা এখন এইচটিএস-এর দখলে। অন্তত ৪০ লাখ উদ্বাস্তু সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইদলিবে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

তবে নতুন করে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় সিরিয়াতে। গত ২৭ নভেম্বর থেকেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো দখলের পর আরও অগ্রসর হতে থাকে। একে একে শহর ও অঞ্চল দখল করতে থাকেন তারা।

বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে কেবল বিদ্রোহী গোষ্ঠী এইচটিএস লড়েনি, তুরস্কের ছত্রছায়ায় থাকা সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি বা এসএনএ-এর একটি অংশও লড়াইয়ে জড়িত রয়েছে। এছাড়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীদেরও সমর্থন দিয়েছে তুরস্ক। সূত্র: আল-জাজিরাদ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, বিবিসি, খালিজ টাইমস

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফরিদপুরে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান: জনগণের অধিকার হরণে গুপ্তদের ষড়যন্ত্র চলছে

হাদি হত্যা মামলায় প্রধান আসামির সহযোগী সঞ্জয় ও ফয়সালের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

পদত্যাগের একদিন পরই আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী হলেন অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান

মায়ের শূন্যতা অপূরণীয়, দেশের মানুষের ভালোবাসায় একাকিত্ব কাটছে: তারেক রহমান

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানালেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’: দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান

মগবাজারে শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণে যুবক নিহত

আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই: সরকার

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজে থ্রি-ডি অ্যানিমেশন মনিটরের উদ্বোধন

ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক, রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

১০

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চর দখলকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি, নিহত ৫

১১

বাফুফে ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মিলারের সৌজন্য সফর, ক্রীড়া উন্নয়নে সহযোগিতার আশাবাদ

১২

ভারতের মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল পায়ে অস্ত্রোপচারের অভিযোগ

১৩

ঐক্যের আহ্বান জানালেন তারেক রহমান, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

১৪

শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ফয়সালের অবস্থান সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই: পুলিশ

১৫

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতে মানুষের ঢল, রাতেও পুলিশি পাহারা

১৬

ভারতে কতদিন থাকবেন, সিদ্ধান্ত নিতে হবে শেখ হাসিনাকেই: জয়শঙ্কর

১৭

বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১২০ চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি

১৮

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি মিলিয়েই নির্ধারিত হবে তারেক রহমানের দেশে ফেরা

১৯

৩.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ঢাকা, বিশেষজ্ঞদের সাবধানতা

২০