
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। যারা এই ষড়যন্ত্র করছে, জনগণ তাদের ‘গুপ্ত’ নামে ডাকছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এরা রূপ বদলায়, তাই তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করা যায় না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে ফরিদপুর বিভাগ (সাংগঠনিক বিভাগ) বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এদের জন্য লাখ লাখ নারী ও মা-বোনের সম্মানহানি হয়েছিল। যাদের নিজেদের দেশের নারীদের প্রতি ন্যূনতম সম্মানবোধ নেই, তাদের কাছে জনগণ নিরাপদ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ‘গুপ্ত’দের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বিশেষ করে মা-বোনদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর ও এনআইডি নম্বর চাইছে, যা অনৈতিক। অনৈতিক কাজ দিয়ে শুরু করে সৎ শাসনের কথা বলা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়া হবে, যাতে বীজ ও সার সরাসরি পৌঁছে দেওয়া যায়। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ফরিদপুর অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নদীভাঙন রোধ করা গেলে কৃষিপ্রধান এ এলাকার পাট বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিটি এলাকার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কলকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, হাসপাতাল সংস্কার ও সারা দেশে হেলথ কেয়ার ব্যবস্থা চালুর কথাও বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
ফরিদপুরকে সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগ ঘোষণার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, বিভাগ গঠন করলে যদি মানুষের উপকার হয় ও সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে বিএনপি সরকার গঠন করলে জনগণের সেই দাবি পূরণ করা হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া। সভায় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের ১৫টি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।
মন্তব্য করুন