
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় ভয়াবহ অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। বাম পায়ের হাড় ভাঙা এক বৃদ্ধ রোগীর ডান পায়ে অস্ত্রোপচার করার ঘটনা ঘিরে রোগীর পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের সুতি-২ ব্লকের মালোপাড়া এলাকার বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী রেণু বিবি বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে বাম পায়ের হিপ জয়েন্টে গুরুতর আঘাত পান। প্রথমে তাকে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নেওয়া হয়, সেখানে এক্স-রে করার পর চিকিৎসকরা তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রেণু বিবির ছেলে মোহাম্মদ রহিমুদ্দিন জানান, পরদিন পরিবারকে জানানো হয়েছিল সন্ধ্যা ৭টায় অস্ত্রোপচার করা হবে। তবে রোগীকে রাত ১১টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে সাধারণ শয্যায় আনার পর পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, বাম পায়ের বদলে ডান পায়ে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। জ্ঞান ফেরার পর বিষয়টি বুঝতে পেরে রোগী চিৎকার শুরু করলে হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত রোগীকে আবার অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাম পায়ে অস্ত্রোপচার করে বলে দাবি করেন স্বজনরা।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জনের বিরুদ্ধে অবহেলা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনে রহিমুদ্দিন বহরমপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার দাবি, এক্স-রে রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বাম পায়ের আঘাতের কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন মারাত্মক ভুল হলো, তা বোধগম্য নয়।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, রোগীর দুই পায়েই চোট ছিল। তবে স্বজনরা এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, কর্তব্যরত নার্সও রেকর্ডে ‘বাম পা’ লেখা থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট অনাদি রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি দাবি করেন, অস্ত্রোপচার নয়, কেবল ট্র্যাকশন দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মন্তব্য করুন