
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তালবাহানা না করে দ্রুত নির্বাচনী সিডিউল ঘোষণা ও নির্বাচন আয়োজনের। অন্যথায় সরকার ‘ব্যর্থ সরকার’ হিসেবে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে যশোর টাউন হল ময়দানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন বানচাল করতে চক্রান্ত করছে। তারা ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। ফ্যাসিবাদের হাতে দেশ তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, এ দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।
ফখরুল বলেন, অনেক শিশু ও সাধারণ মানুষের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। যারা আবার সেই পথে দেশকে নিয়ে যেতে চায়, তাদের মনে রাখা উচিত, বিএনপি ভেসে আসা দল নয়। হামলা-মামলা, কারাভোগ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই অবস্থানে এসেছে বিএনপি। পানি ঘোলা করবেন না, দেশকে অস্থিতিশীল করবেন না। বিএনপি রাস্তায় নামলে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেবে।
সংস্কার কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে সংস্কার কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সভা করেছে। আমরা মতামত দিয়েছি। ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ প্লাজায় সকল দলের স্বাক্ষরে সংস্কার প্রস্তাব পাশ হয়। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের হাতের পুতুল।
তিনি আরও বলেন, যেসব বিষয়ে ঐক্যমত্য হয়েছে, তাতে স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো সংসদে সমাধান হবে। তাই এখনই দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করুন।
আগামী ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক দিন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, এই দিনে জাতিকে ধ্বংসের চক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও জনগণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে দেশের শাসনভার তুলে দিয়ে রাষ্ট্রকে রক্ষা করেছিল। এখনো যারা দেশকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর দেশে গণতন্ত্র উত্তরণের সুযোগ এসেছে। এখন আমাদের শপথ নিতে হবে, দেশকে আর আধিপত্যবাদের হাতে তুলে দেব না, গণতন্ত্র হরণকারীদের হাতে দেব না এবং পতিত ফ্যাসিস্টদের আর ফিরতে দেব না।
সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা অমলেন্দু দাস অপু, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, টিএস আউয়ূব, সাবিরা সুলতানা মুন্নি, আবুল হোসেন আজাদ এবং কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম ও কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সভায় মির্জা ফখরুল যশোর-৩ আসনের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ জেলার ছয়টি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিপুল ভোটে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন