
পশ্চিম সুদানের দারফুর অঞ্চলে প্যারামিলিটারি বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) দখলের পর নিপীড়ন, ধর্ষণ ও গণহত্যার ভয়াবহ বর্ণনা উঠে এসেছে পালিয়ে আসা মানুষের মুখে। ১৮ মাসের অবরোধ শেষে উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশের দখল নেয় আরএসএফ, যা ছিল সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরএসএফের হাতে প্রাণে বাঁচা মানুষজন বলছেন, তাদের ওপর চালানো হয়েছে নির্মম নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ। ৩০০ জনের একটি দল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করা তরুণ আলখেইর ইসমাইল জানান, “আমার সঙ্গে খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহপাঠী ছিল। যোদ্ধাদের বলেছিলাম, ওকে মেরো না। কিন্তু তারা সবাইকে হত্যা করে।”
তাওইলায় পালিয়ে যাওয়া আরেক নারী তাহানি হাসান বলেন, তারা আমাদের মারধর করেছে, কাপড় খুলে তল্লাশি করেছে। যারা মারছিল, তারা আমার মেয়ের থেকেও ছোট।
৬৫ বছর বয়সী ফাতিমা আব্দুল রহিম জানান, পাঁচ দিন হাঁটার পর তিনি নাতি-নাতনিদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছান। বলেন, “আমাদের দলের মেয়েদের মধ্যে অনেককে ধর্ষণ করেছে তারা।”
আরেক তরুণী রাওয়া আবদাল্লাহ জানান, তার বাবা এখনো নিখোঁজ। “আমরা জানি না তিনি জীবিত না মৃত,” বলেন তিনি।
বুধবার রাতে আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান ‘হেমেতি’ দাগালো দাবি করেন, তার বাহিনী বেসামরিক মানুষকে রক্ষার নির্দেশ পেয়েছে এবং অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার তারা জানায়, কিছু ‘অপরাধী যোদ্ধা’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার এ দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সুদানে এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ নিহত, প্রায় দেড় কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত। দেশটি এখন বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে দুর্ভিক্ষ ও মারাত্মক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, জাতিসংঘ
মন্তব্য করুন