
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা দিয়েছেন, দেশটি সফলভাবে নতুন পারমাণবিক শক্তিচালিত সুপার টর্পেডো ‘পসাইডন’-এর পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। মস্কোর একটি হাসপাতালে আহত সৈন্যদের দেখতে গিয়ে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
পুতিন বলেন, এর মতো অস্ত্র বিশ্বের আর কোথাও নেই।
গ্রিক পুরাণের সমুদ্রদেবতার নামে নামকরণ করা এই টর্পেডো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হলেও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বিশাল তেজস্ক্রিয় সমুদ্রঢেউ তৈরি করে উপকূলীয় অঞ্চল ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।
২০১৮ সালে প্রথমবার পসাইডনের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসে। রুশ গণমাধ্যমের দাবি, এটি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে এবং এর গতিপথ পরিবর্তন করা কার্যত অসম্ভব।
এর আগে গত ২১ অক্টোবর রাশিয়া ‘বুরেভেস্তনিক’ নামের এক নতুন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রেরও সফল পরীক্ষা চালায়। দেশটির দাবি, এটি বিশ্বের যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘোষণা মূলত রাজনৈতিক কৌশল। রাশিয়া-বিশেষজ্ঞ মার্ক গ্যালিওটি বিবিসিকে বলেন,
“এগুলো পৃথিবী ধ্বংসকারী ‘আর্মাগেডন অস্ত্র’, যা কেবল প্রতিশোধমূলক ব্যবহারের জন্যই তৈরি।”
তিনি আরও যোগ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধে স্থবিরতা ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপে পুতিন এখন শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈশ্বিক মনোযোগ অন্যদিকে নিতে চাইছেন।
এদিকে পুতিনের ঘোষণার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেনাবাহিনীকে পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ক্রেমলিন দাবি করেছে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক পরীক্ষাগুলো পারমাণবিক নয়, বরং “ডেলিভারি সিস্টেম যাচাই” ছিল।
ইউরোপজুড়ে পুতিনের এই নতুন ঘোষণায় উদ্বেগ বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সাড়ে তিন বছরেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য না পেয়ে মস্কো আবারও সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
মন্তব্য করুন