
দেশে প্রতি আট জনে একজন নারী স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তবে এটি এখন আর মৃত্যু ঘটানোর মতো রোগ নয়— সচেতনতার মাধ্যমে এ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগও এ রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্তন ক্যান্সার সচেতনতার মাস উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং বারডেম হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং তাদের মা ও বোনদের জন্য বারডেম জেনারেল হাসপাতালে বিনামূল্যে স্তন পরীক্ষা এবং প্রায় অর্ধেক মূল্যে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ম্যামোগ্রাম সুবিধা দেওয়া হবে।
বারডেম হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মাহবুবুল হাসান বলেন, এ রকম একটি উদ্যোগে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ। এটি কেবল একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি নয়, বরং নারীদের জন্য বাস্তব সহায়তা প্রদানের একটি উদ্যোগ। আমাদের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা যাদের প্রয়োজন, তাদের জন্য অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দিচ্ছেন। প্রয়োজনে আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করছি।
বারডেম অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোর্শেদ উদ্দিন আকন্দ বলেন, ক্যান্সার দুরারোগ্য ব্যাধি হলেও সচেতনতা বাড়ানো গেলে মৃত্যু হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে লজ্জা ও সংকোচের কারণে অনেক নারী চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। ফলে চিকিৎসার ফল ভালো হয় না। তাই প্রাথমিক পর্যায়েই পরীক্ষা ও চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন,আমাদের সমাজে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সময়মতো সেলফ চেক ও চিকিৎসা নিলে স্তন ক্যান্সার থেকে স্থায়ীভাবে মুক্ত থাকা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন