
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চালু করা হয়েছে সাপের কামড় ও বিষ পানের চিকিৎসায় দেশের প্রথম ওয়ার্ড। সম্প্রতি এর উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে সাপের কামড় ও বিষপানে আক্রান্ত রোগীরা এখান থেকে সহজে চিকিৎসা নিতে পারবেন।
এর উদ্বোধন করেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এফ এম শামীম আহম্মেদ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি ওয়ার্ড নয়, বরং এটি গ্রামের মানুষদের জন্য জোরালো সুরক্ষা। প্রশিক্ষিত টিম ও পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম থাকার কারণে আমরা দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা দিতে পারবো। এই ওয়ার্ডের লক্ষ্য সাপে কামড় ও বিষপানজনিত রোগীদের মৃত্যুহার কমানো এবং আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, হাই-ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) মানের সুবিধাসম্পন্ন এই ওয়ার্ডে মোট ১২ শয্যা রয়েছে (পুরুষ ৮, নারী ৪) রয়েছে। প্রয়োজনে বাইরে থেকে জরুরি রোগীও এখানে নেওয়া হবে। ওয়ার্ডে প্রাত্যহিকভাবে চিকিৎসক ও নার্স সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম, ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ থাকবে।
মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু শাহিন মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রামেকে মোট এক হাজার ২০৬ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, এর মধ্যে ২৬০ জন ছিলেন বিষধর সাপের কামড়। এ সময় হাসপাতালে মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন র্যাসেল ভাইপার দ্বারা।
ওয়ার্ড চালুর আগে চিকিৎসক ও নার্সদের জাতীয় স্নেকবাইট ম্যানেজমেন্ট নির্দেশিকা অনুসারে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। পরিচালকের বক্তব্যে বলা হয়, আগে রোগীদের সাধারণ ওয়ার্ডে নেয়া হতো এবং অনেক সময় রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছাতো; নতুন এই ইউনিটে ২৪ ঘণ্টা তত্ত্বাবধান ও তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে মৃত্যুহার আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অ্যান্টিভেনম সম্পর্কে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ডোজের মূল্য প্রায় ১৩ হাজার টাকা; সাধারণত প্রতিটি ডোজে প্রায় ১০টি শিশির (vial) ব্যবহার হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ডোজ প্রয়োজন হতে পারে। যদিও একটি নির্ভরযোগ্য অ্যান্টিভেনম অনেক ব্যয়সাপেক্ষ।
রামেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব ধরনের চিকিৎসা ও ওষুধ রোগীর জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হবে এবং রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা শুরু করা হবে।
মন্তব্য করুন