
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডে তার ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকার পৃথক চার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন তিন আসামি ও এক সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন।
এর প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়ার আদালতে জবানবন্দি দেন বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে জবানবন্দি দেন বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান, এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে জবানবন্দি দেন মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান।
এছাড়া মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুজ্জামানের আদালতে প্রীতম চন্দ্র দাস সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে পরিবারের হেফাজতে দেওয়া হয়।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে বর্ষা ও মাহিরের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অপরদিকে প্রায় এক বছর আগে বর্ষার টিউটর হিসেবে আসতেন জোবায়েদ হোসেন। টিউশনের সুবাদে বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।
এতে মাহির ও বর্ষার মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ঘটনার এক মাস আগে মাহির জানতে পারেন, বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাহির ও বর্ষা একাধিকবার হত্যার পরিকল্পনা করেন। এমনকি বর্ষা মাহিরকে বলেন, “স্যারকে তুমি মেরে ফেল, আমি আর তাকে সহ্য করতে পারছি না।”
পরিকল্পনা অনুযায়ী মাহির তার বন্ধু ফারদীনকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর বউবাজার এলাকায় ৫০০ টাকায় একটি সুইচ গিয়ার চাকু কেনেন।
গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জোবায়েদ বংশাল থানার নুর বক্স লেনের রৌশান ভিলায় টিউশন করাতে যান। বাসার নিচতলার সিঁড়ির নিচে ওত পেতে ছিলেন মাহির ও ফারদীন। তারা জোবায়েদকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি বর্ষার সঙ্গে সম্পর্ক করেন কেন? এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মাহির তার ব্যাগ থেকে চাকু বের করে জোবায়েদের গলার ডান পাশে আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই জোবায়েদ মারা যান।
জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন