
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় আসছে কাঠামোগত পরিবর্তন। একীভূত প্রশ্নপত্রে একসঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে, যেখানে মুখস্থবিদ্যার পাশাপাশি বিশ্লেষণী দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্বমূলক দিককে মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন ‘মেডিভয়েস’-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অধ্যাপক নাজমুল বলেন, এবার এমবিবিএস ও বিডিএসের আলাদা পরীক্ষা হবে না, একটিই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগেও এমন ছিল, তবে পরে এটি ভাগ করা হয়েছিল। আবার একীভূত পরীক্ষায় ফিরে আসায় কিছু টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জ থাকলেও সামগ্রিকভাবে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক। তিনি জানান, আগের মতো দুটি আলাদা পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের আলাদা ফি ও প্রস্তুতির ঝামেলা থাকবে না।
নতুন ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা তিনভাবে চয়েস দিতে পারবেন:
১। শুধু এমবিবিএস — ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে পছন্দ নির্বাচন।
২। শুধু বিডিএস — ১টি ডেন্টাল কলেজ ও ৮টি ডেন্টাল ইউনিট (মোট ৯টি)।
৩। উভয় অপশন (এমবিবিএস + বিডিএস) মোট ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে এক থেকে ৪৬ পর্যন্ত পছন্দক্রম নির্ধারণ।
ডা. নাজমুল জানান, আমাদের ভর্তি পরীক্ষা এখনো অনেকটাই মুখস্থবিদ্যা-নির্ভর। কিন্তু একজন ভালো ডাক্তার হওয়ার জন্য কেবল স্মৃতি নয়, মানবিকতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতাও জরুরি। তাই এবার প্রশ্নে এমন উপাদান থাকবে, যা পরীক্ষার্থীর নৈতিক বোধ, সংবেদনশীলতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করবে।
তিনি জানান, এ জন্য ১৪-১৫টি দেশের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রশ্ন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
বুয়েট ও টেলিটকের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। “আমরা নিশ্চিত হয়েছি, প্রযুক্তিগতভাবে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এখন শুধু ছোটখাটো বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা বাকি,” যোগ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন