
এ বছর উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধস নেমেছে। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। এবার মোট ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৭ লাখ ২৬ হাজার, ফলে সামগ্রিক পাসের হার নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশে— যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।
গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে।
সর্বোচ্চ ফলাফল: সিলেট বোর্ডে — পাসের হার ৭১.৪৭%।
সবচেয়ে কম ফলাফল: যশোর বোর্ডে — পাসের হার ৪৮.৮৫%।
ঢাকা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল সবচেয়ে বেশি— ১ লাখ ৩৬ হাজার ২১৩ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৮৩ হাজার ৯৮৮ জন (৬১.৬৬%)।
রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৮.৬৯%,
চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫০.২০%,
কুমিল্লা বোর্ডে ৫৭.৪৯%,
বরিশাল বোর্ডে ৫৫.৯৯%,
দিনাজপুর বোর্ডে ৬২.০৫%,
ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৫.৭০%।
মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৭৪.৪৩%,
কারিগরি বোর্ডে ৫৮.১৪%।
ছেলে শিক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬৮ জন, মেয়েদের সংখ্যা ৬ লাখ ৩০ হাজার ৯৮৯ জন।
তবে অনেক বোর্ডে গড় নম্বরের বিচারে মেয়েরা ভালো ফল করেছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড সূত্র।
শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ বছর থেকে পূর্ণ সিলেবাসে ও পূর্ণ নম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। করোনাকালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও নমনীয় মূল্যায়নের কারণে আগের বছরগুলোতে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো ফল পেয়েছিল। কিন্তু এবার কঠোর মূল্যায়ন ও পূর্ণাঙ্গ প্রশ্নের কারণে অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, এবারের পরীক্ষা সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, নির্ভুল ও পূর্ণ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং গোপনীয়তা রক্ষায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন