
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং মানসিক ও সামাজিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘দ্য ওয়েলবিং প্রজেক্ট’ নামে এক নতুন কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি)-এর উদ্যোগে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড হসপিটালে (এনআইএমএইচ) আয়োজিত এক কর্মশালায় এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
ড্যানিশ ইনস্টিটিউট অ্যাগেইনস্ট টর্চার (DIGNITY)-এর সহযোগিতায় এবং ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (DANIDA)-এর আর্থিক সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মশালার লক্ষ্য ছিল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও মনস্তাত্ত্বিক-সামাজিক সহায়তা (MHPSS) শক্তিশালী করা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শহীদ মাহমুদুর রহমান শৈকতের বাবা মাহবুবুর রহমান বশির। তিনি গণঅভ্যুত্থানের ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে এইচআরডিসির সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর জোর দেন।
এইচআরডিসির সেক্রেটারি জেনারেল ও সিইও মো. মাহবুল হকের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের পরিচালক মো. জিয়ানুর কবির। তিনি গণঅভ্যুত্থানের মানসিক স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপন করেন।
ডেনমার্ক দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন অ্যান্ডার্স কার্লসেন বলেন, বাংলাদেশে সংঘাত-আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসনে সহায়তা দিতে ডেনমার্ক অঙ্গীকারবদ্ধ। গণতন্ত্র, নিরাময় ও উন্নয়নের যাত্রায় বাংলাদেশের পাশে থাকতে আমরা গর্বিত।
প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও মানসিক স্বাস্থ্য একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারলেই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য টেকসই সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর জানান, গণঅভ্যুত্থানে গুরুতরভাবে আহত ৪০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। তিনি এইচআরডিসির উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও মানবিক বলে উল্লেখ করেন।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও লে. কর্নেল (অব.) কামাল আকবর বলেন, ১২ হাজারেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পুনর্বাসন নিশ্চিত করা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। এ জন্য গবেষণা, তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ ও সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি।
একই সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শামসী আরা জামান বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্তদের ‘উন্মাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তাই টেকসই সহায়তার জন্য ফাউন্ডেশন ও এইচআরডিসির মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য।
কর্মশালায় গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন এবং মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন ও অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানান। উপস্থিত ছিলেন নাগরিক সমাজ, এনজিও ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি—যাদের মধ্যে ছিলেন জেনা দেরখশানি হামাদানি (ICC-BR,D), সুমাইয়া তাসনিম (SOCCHAR), ফরহাদ হোসেন (LEEDO), আমিনুর রাসুল (PHM) ও মো. আনোয়ার হোসেন (যুগ্ম সচিব, এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো)।
এনআইএমএইচের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালাটি ‘দ্য ওয়েলবিং প্রজেক্টের’ ভিত্তি স্থাপন করে—যার লক্ষ্য হলো জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক, সামাজিক ও পুনর্বাসনমূলক চাহিদা পূরণের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সহযোগিতামূলক কাঠামো তৈরি করা।
মন্তব্য করুন