
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের টানা আন্দোলনের মুখে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। বাড়িভাড়া ৫ শতাংশ অথবা ন্যূনতম দুই হাজার টাকা বৃদ্ধির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সবুজ সংকেত দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে এ জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা, যা আগামী অর্থবছর থেকে আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও শাখার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে অর্থ উপদেষ্টা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় অর্থ বিভাগের সঙ্গে বুধবারও একাধিকবার যোগাযোগ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি। পরে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। তবে অর্থ বিভাগ ৫ শতাংশ বা ২ হাজার টাকার প্রস্তাবে রাজি হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রের বাজেট যেখানে ৮ লাখ কোটি টাকা, সেখানে শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ২০ শতাংশ বাড়াতে খরচ হবে প্রায় ২৩০০ কোটি টাকা। তাদের মতে, শিক্ষক সমাজের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা হবে অন্যায়, সরকারকে দ্রুত সমাধানে আসতে হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, তবে সূত্র বলছে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
দাবি আদায়ে বুধবারও রাজপথে ছিলেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে তারা স্লোগান দেন এবং ব্যানার হাতে প্রধান সড়কে শুয়ে পড়েন। এতে শাহবাগ, রমনা, এলিফ্যান্ট রোড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিক্ষকরা মিছিল নিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ফিরে যান।
তারা ঘোষণা দিয়েছেন, বুধবারের মধ্যে দাবি না মানলে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ‘লং মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, আমাদের দাবি মেনে না নিলে আমরা যমুনার দিকে লং মার্চ করবো। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছি, এখন তারাও যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ বলেন, শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় আন্তরিক। তবে বাড়িভাড়া কত হারে বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন