
কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে মিয়ানমারের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সাত মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে সরকার প্রতি মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমিক, পরিবহনকর্মী ও ব্যবসায়ী।
বন্দর পুনরায় চালুর দাবিতে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) টেকনাফ স্থলবন্দর সংলগ্ন হাইওয়ে সড়কে মানববন্ধন ও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী (জান্তা বাহিনী) ও দেশটির বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে এ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। নাফনদী পেরিয়ে মিয়ানমার থেকে পণ্য আনতে গেলে আরাকান আর্মির সদস্যরা পণ্যবাহী জাহাজ আটকানোসহ বিভিন্ন বাধা সৃষ্টি করে। ফলে ধীরে ধীরে উভয় দেশের বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মির দখল বাড়ার পর থেকেই এই অচলাবস্থা দেখা দেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দর বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি প্রায় ভেঙে পড়েছে। বন্দরের ওপর নির্ভরশীল শত শত শ্রমিক ও ব্যবসায়ী জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানান।
বন্দরের শ্রমিক নেজাম উদ্দিন বলেন, “বন্দরে কয়েক বছর ধরে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতাম। সাত মাস ধরে কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে আছি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল বলছে, টেকনাফ স্থলবন্দর পুনরায় চালু হলে শুধু রাজস্ব আয়ই বাড়বে না, বরং সীমান্ত অঞ্চলের বেকারত্বও অনেকটা কমে যাবে। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্দর কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
মন্তব্য করুন