
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এ শুরু হচ্ছে ‘স্মার্ট হাসপাতাল পাইলট উদ্যোগ’। সোমবার (৬ অক্টোবর) বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত বিএমইউ ও ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের (আইসিইএসসিও) যৌথ সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিইএসসিওর মহাপরিচালক ড. সালিম এম. আল মালিক। আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল হক প্রমুখ।
সভায় ‘স্মার্ট হাসপাতাল পাইলট উদ্যোগ’ শীর্ষক যুগান্তকারী প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়, যা বিএমইউর ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য দেশের স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, কার্যকর ও রোগীকেন্দ্রিক করা।
এই উদ্যোগের আওতায় থাকবে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ভিত্তিক রোগী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, স্মার্ট নার্স স্টেশন, ডিজিটাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ, স্বয়ংক্রিয় গুরুত্বপূর্ণ সংকেত পর্যবেক্ষণ এবং ক্লাউড-সংযুক্ত ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড (ইএমআর) সিস্টেম। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইওটি এবং ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড (ইএইচআর)-এর সমন্বয়ে রোগীসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এক নতুন যুগের সূচনা হবে।
বক্তারা বলেন, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রোগীসেবার মান উন্নত হবে, দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং স্বাস্থ্য গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কারিগরি ও একাডেমিক সহায়তা দিচ্ছে বিএমইউর পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়ে একই বছরের ডিসেম্বর মাসে সমাপ্ত হবে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্য খাতকে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন