
বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে র্যালি, আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরাম। এ সময় সংগঠনের নেতারা ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন, যেখানে ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ এবং ফার্মাসিস্টদের বেতন কাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলা মোটরের ওয়াটারফল কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. আজিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন প্রফেসর ডা. মো. সেলিম রেজা, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আকতার হোসেন, ফার্মেসি কাউন্সিলের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. আসিফ হাসান, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. আমিরুল ইসলাম, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. হারুন-অর-রশিদসহ ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে এখনো হাসপাতাল ও কমিউনিটি ফার্মেসি কার্যক্রম চালু হয়নি। ফলে রোগীরা ফার্মাসিস্টের সঠিক পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফার্মাসিস্টস ফোরামের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়,
১. ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ: সারাদেশের সকল হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দ্রুত ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে।
২. হাসপাতাল ফার্মেসি চালু: জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬ অনুযায়ী হাসপাতাল ফার্মেসি চালু করে ২৪ ঘণ্টা গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. বেতন কাঠামো উন্নয়ন: ওষুধ শিল্পে কর্মরত ফার্মাসিস্টদের জন্য উন্নত বেতন কাঠামো ও পেশাগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
৪. কমিউনিটি ফার্মেসি নেটওয়ার্ক: সারাদেশে ফার্মাসিস্ট পরিচালিত শক্তিশালী কমিউনিটি ফার্মেসি সেবা গড়ে তুলতে হবে।
৫. চিকিৎসাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রি বন্ধ: চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রতিটি জেলা-উপজেলায় ফার্মাসিস্ট প্রশাসক নিয়োগ দিতে হবে।
৬. শুধু গ্র্যাজুয়েটদের ফার্মাসিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি: ডব্লিউএইচও ও এফআইপি’র নির্দেশনা অনুযায়ী কেবলমাত্র ফার্মেসি গ্র্যাজুয়েটদের ফার্মাসিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মো. আজিবুর রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতের মান উন্নয়নের জন্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ জরুরি। পাশাপাশি ফার্মাসিস্টদের পেশাগত স্বীকৃতি ও বেতন কাঠামো উন্নয়নেও সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তানভীর বলেন, হাসপাতালে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে জনগণ নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ ব্যবস্থাপনা পাবে। একইসঙ্গে শিল্প খাতে ফার্মাসিস্টদের জন্য ন্যায্য ও আধুনিক বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
ফার্মাসিস্টস ফোরামের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এই দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন