
দ্রব্যমূল্যের লাগাতার ঊর্ধ্বগতিতে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। জরিপে দেখা গেছে, আর্থিক সংকটে থাকা ২০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে ৬৭ শতাংশ চিকিৎসা ব্যয় এবং ২৭ শতাংশ ঋণ পরিশোধ নিয়ে বিপাকে রয়েছে।
গত সোমবার রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত ‘পরিবার পর্যায়ে মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান’ শীর্ষক আলোচনায় পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন। মে মাসে দেশের ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার এক অস্থির চিত্র উঠে আসে।
জরিপ অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্যের উল্লম্ফনই মানুষের প্রথম ও প্রধান উদ্বেগের কারণ। একইসঙ্গে আয়ের পতন ও পুঁজির অভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন মধ্যবিত্ত ও উদ্যোক্তারা। দরিদ্র পরিবারের ৪০ শতাংশ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এছাড়া সন্তানের শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৬৫ শতাংশ মানুষ এবং কিশোর অপরাধ ও মাদক প্রসঙ্গে উদ্বিগ্ন যথাক্রমে ৫৫ ও ৫৬ শতাংশ।
ড. জিল্লুর রহমান বলেন, উচ্চবিত্তের আয়ের ক্ষেত্রেও কিছুটা পতন দেখা গেছে, যা অস্বস্তিকর সংকেত। ঋণ পরিশোধ এখন তাদের জন্য দ্বিতীয় প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্যানেল আলোচনায় সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রকে কাঠামোগতভাবে অপ্রাতিষ্ঠানিক করে গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে।সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো সুবিধা পাচ্ছে, অথচ সাধারণ মানুষ অসংগঠিত থাকায় বঞ্চিত হচ্ছে।
গবেষক ভূঁইয়া মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, তরুণদের ক্ষোভ বাড়লেও প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হবে না। তবে শহরাঞ্চলে হয়রানির প্রবণতা ও মানুষের সেবা না পাওয়ার অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা জরুরি।
অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মানুষের একটি বড় অংশ আশা হারিয়েছে এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। কেন এত দ্রুত মানুষের আশা ক্ষয় হলো, তা নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ সামাজিক নিরাপত্তা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া মানুষের মানসিক চাপ ও সামাজিক অস্থিরতা আরও গভীর হতে পারে।
মন্তব্য করুন