স্বাস্থ্যকণ্ঠ
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশের ৭০% মানুষের উদ্বেগ: পিপিআরসির জরিপে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের চিত্র

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দ্রব্যমূল্যের লাগাতার ঊর্ধ্বগতিতে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)। জরিপে দেখা গেছে, আর্থিক সংকটে থাকা ২০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে ৬৭ শতাংশ চিকিৎসা ব্যয় এবং ২৭ শতাংশ ঋণ পরিশোধ নিয়ে বিপাকে রয়েছে।

গত সোমবার রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত ‘পরিবার পর্যায়ে মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান’ শীর্ষক আলোচনায় পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন। মে মাসে দেশের ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার এক অস্থির চিত্র উঠে আসে।

জরিপ অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্যের উল্লম্ফনই মানুষের প্রথম ও প্রধান উদ্বেগের কারণ। একইসঙ্গে আয়ের পতন ও পুঁজির অভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন মধ্যবিত্ত ও উদ্যোক্তারা। দরিদ্র পরিবারের ৪০ শতাংশ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এছাড়া সন্তানের শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৬৫ শতাংশ মানুষ এবং কিশোর অপরাধ ও মাদক প্রসঙ্গে উদ্বিগ্ন যথাক্রমে ৫৫ ও ৫৬ শতাংশ।

ড. জিল্লুর রহমান বলেন, উচ্চবিত্তের আয়ের ক্ষেত্রেও কিছুটা পতন দেখা গেছে, যা অস্বস্তিকর সংকেত। ঋণ পরিশোধ এখন তাদের জন্য দ্বিতীয় প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্যানেল আলোচনায় সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির মন্তব্য করেন,  রাষ্ট্রকে কাঠামোগতভাবে অপ্রাতিষ্ঠানিক করে গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে।সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো সুবিধা পাচ্ছে, অথচ সাধারণ মানুষ অসংগঠিত থাকায় বঞ্চিত হচ্ছে।

গবেষক ভূঁইয়া মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, তরুণদের ক্ষোভ বাড়লেও প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হবে না। তবে শহরাঞ্চলে হয়রানির প্রবণতা ও মানুষের সেবা না পাওয়ার অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা জরুরি।

অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মানুষের একটি বড় অংশ আশা হারিয়েছে এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। কেন এত দ্রুত মানুষের আশা ক্ষয় হলো, তা নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ  সামাজিক নিরাপত্তা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া মানুষের মানসিক চাপ ও সামাজিক অস্থিরতা আরও গভীর হতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফরিদপুরে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান: জনগণের অধিকার হরণে গুপ্তদের ষড়যন্ত্র চলছে

হাদি হত্যা মামলায় প্রধান আসামির সহযোগী সঞ্জয় ও ফয়সালের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

পদত্যাগের একদিন পরই আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী হলেন অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান

মায়ের শূন্যতা অপূরণীয়, দেশের মানুষের ভালোবাসায় একাকিত্ব কাটছে: তারেক রহমান

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানালেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’: দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান

মগবাজারে শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণে যুবক নিহত

আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই: সরকার

আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজে থ্রি-ডি অ্যানিমেশন মনিটরের উদ্বোধন

ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক, রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

১০

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চর দখলকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি, নিহত ৫

১১

বাফুফে ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মিলারের সৌজন্য সফর, ক্রীড়া উন্নয়নে সহযোগিতার আশাবাদ

১২

ভারতের মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল পায়ে অস্ত্রোপচারের অভিযোগ

১৩

ঐক্যের আহ্বান জানালেন তারেক রহমান, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

১৪

শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ফয়সালের অবস্থান সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই: পুলিশ

১৫

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতে মানুষের ঢল, রাতেও পুলিশি পাহারা

১৬

ভারতে কতদিন থাকবেন, সিদ্ধান্ত নিতে হবে শেখ হাসিনাকেই: জয়শঙ্কর

১৭

বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১২০ চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি

১৮

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি মিলিয়েই নির্ধারিত হবে তারেক রহমানের দেশে ফেরা

১৯

৩.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ঢাকা, বিশেষজ্ঞদের সাবধানতা

২০