
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হচ্ছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জাদুঘর নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে জানান, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উদ্বোধনের আশা করা হচ্ছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাগুলোর একটি দলিল হিসেবে কাজ করবে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তথ্য সংরক্ষণ করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশ ও সমাজের পরিবর্তনের ধারাকে বুঝতে পারে।
প্রফেসর ইউনূস জাদুঘর নির্মাণে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি কেবল একটি প্রদর্শনী স্থান নয়, বরং শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হবে। এখানে আগতরা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের গুরুত্ব উপলব্ধি করবেন।
জাদুঘর নির্মাণ কাজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) টিম এবং ঐতিহাসিক গবেষকদের সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানান চিফ কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব। তিনি বলেন, জাদুঘরে থাকবে আর্কাইভ, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং একটি বিশেষ স্ক্রিনিং সেন্টার। আমরা চাই এই জাদুঘর একটি গবেষণা ও শেখার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের গভর্নিং বডির চেয়ারপারসন মেরিনা তাবাসসুম।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের গবেষক ও শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন ড্যানিয়েল আফজালুর রহমান, কবি হাসান রোবায়েত, মালিহা নামলাহা, শিল্পী তেজশ হালদার জশ, মোসফিকুর রহমান জোহান, স্থপতি সালাউদ্দিন আহমেদ এবং সমন্বয়কারী হাসান এনাম।
মন্তব্য করুন