
ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল ও বিভ্রান্তি ছড়াতে কেউ যেন বিএনপির নাম ব্যবহার করতে না পারে এ বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন,
“আমাদের প্রত্যেকটি মানুষকে, শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রত্যেকটি সৈনিককে সচেতন থাকতে হবে। কেউ যেন বিএনপির নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল বা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে এই দায়িত্ব সবার নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে ধানের শীষের সব নেতাকর্মী যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে, আমাদের সামনে একটাই লক্ষ্য— যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকা। এর কোনো বিকল্প নেই।
তারেক রহমান স্বৈরাচার বিদায় নিলেও অদৃশ্য অপশক্তির উত্থান নিয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হলে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইস্পাতের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারলে বিএনপি সফল জনরায় আনতে পারবে।”
তিনি নেতাকর্মীদের দুটি বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করতে বলেন,
১. দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ থাকা।
২. দলের নামে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল বা দলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে না পারে।
প্রতিজ্ঞার আহ্বানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা হাত তুলে সমর্থন জানান।
দীর্ঘ নয় বছর পর আয়োজিত এ সম্মেলন শুরু হয় জাতীয় সংগীত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা পুরোনো স্টেডিয়ামে সমবেত হন। কয়েক হাজার কর্মীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে ভোট দেবেন দুই হাজার ৯০ জন কাউন্সিলর। এই ভোটের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন হবে।
সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেলসহ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল আলম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম।
মন্তব্য করুন