
দোহায় বিমান হামলার নির্দেশ দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং এজন্য তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে— এমন মন্তব্য করেছে কাতার। মঙ্গলবার দোহায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি এই সতর্কবার্তা দেন।
এর আগে একই দিন ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, কাতারের রাজধানীতে ইসরায়েলের বিমান বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলা বৃথা যায়নি বরং এর মাধ্যমে কাতারকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে।
মাজেদ আল আনসারি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী তার ব্যর্থতাকে ঢাকতে ও ন্যায্যতা দিতে বেপরোয়া নীতি অনুসরণ করছেন। দোহায় হামলার নির্দেশ দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এর জন্য তিনি শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারবেন না।
২০১২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কাতারে অবস্থান করছেন হামাসের শীর্ষ নেতারা। গাজায় চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের সঙ্গে কাতার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ। তবে গত ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় এক ভবনে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলায় ৬ জন নিহত হন। সেই হামলার লক্ষ্য ছিলেন হামাসের বর্তমান শীর্ষ নেতা খলিল আল হায়া ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা। তারা বেঁচে গেলেও ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তোলে।
কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে আল আনসারি বলেন, “কাতার এখন জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বিশ্বাসঘাতক ইসরায়েলি হামলার জবাব দিতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এমন হামলা আর না ঘটে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায় সেদিকেই মনোযোগী আমরা।
গাজায় হামাসের দুই শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া ও ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে হত্যার পর হামাসের নেতৃত্বে আসেন খলিল আল হায়া। তার ওপর দোহায় এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
মন্তব্য করুন