
নয়াদিল্লি, ১৬ সেপ্টেম্বর:
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভয়াবহ বায়ুদূষণের কারণে মুঘল আমলের ঐতিহাসিক স্থাপনা লালকেল্লার দেয়ালে কালো আস্তরণ জমছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এই কালো স্তর সময়মতো অপসারণ না করলে ঐতিহাসিক এই দুর্গের সূক্ষ্ম খোদাই ও নকশা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গবেষকরা জানান, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চালানো এই গবেষণায় লালকেল্লার দেয়ালে জমে থাকা কালো আস্তরণের পুরুত্ব ০.০৫ মিলিমিটার থেকে ০.৫ মিলিমিটার পর্যন্ত পাওয়া গেছে। বাতাসে থাকা পিএম ২.৫ ও পিএম ১০ ধূলিকণা এবং অন্যান্য দূষক কণার সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে এই স্তর তৈরি হয়েছে।
লালকেল্লার ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব নিয়ে এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ গবেষণা। এতে দেখা গেছে, দেয়ালে জমা ধূলিকণার কারণে খিলান, গম্বুজ ও পাথরের নকশা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গবেষণায় দেয়ালে ফোস্কা পড়া ও খোসা ওঠার মতো ক্ষতির প্রমাণও মিলেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর একটি দিল্লি, যেখানে শীতকালে বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সংরক্ষণবিদরা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে বায়ুদূষণের কারণে ভারতের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এর আগে ২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বায়ু ও পানিদূষণের প্রভাবে তাজমহলের রঙ পরিবর্তনের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, দ্রুত সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। বিশেষ সুরক্ষা উপাদান বা সিলান্ট ব্যবহার করে লালকেল্লার দেয়াল রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে মুঘল স্থাপত্যের অন্যতম প্রতীক এই ঐতিহাসিক দুর্গের অনন্য সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে পারে।
মুঘল সম্রাট শাহজাহান নির্মিত লালকেল্লা ১৯৪৭ সাল থেকে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব রোধ না করলে ভারতের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়বে।
মন্তব্য করুন