
উনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ঢাকার কারওয়ান বাজার শাখা থেকে ২১ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাত ও পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী রুকমীলা জামান ও ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে আছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবির সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, আনিসুজ্জামান চৌধুরী, আখতার মতিন চৌধুরী, এম এ সবুর, হাজী আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, আসিফুজ্জামান চৌধুরী, রোকসানা জামান চৌধুরী, বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান ও মো. শাহ আলম। এ ছাড়া আরামিট ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীও অভিযুক্ত।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিটের জুনিয়র অফিসার মোহাম্মদ মিছবাহুল আলমের নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠান ‘মডেল ট্রেডিং’ দেখিয়ে ঋণ নেওয়া হয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে জাল ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহের পর ইউসিবির কারওয়ান বাজার শাখায় চলতি হিসাব খোলা হয়। শাখার তৎকালীন কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই ছাড়াই ওই হিসাব অনুমোদন করেন।
এরপর ৩০ কোটি টাকার ঋণ আবেদন করা হলে ২১ কোটি টাকা অনুমোদিত হয়। ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জাল পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটিকে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে অর্থটি উত্তোলন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়। পরে আরেকটি জালিয়াতি ঋণের অর্থ ঘুরিয়ে এনে এই ঋণ পরিশোধ দেখানো হয়।
মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২)(৩) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে ১০৩ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে সাইফুজ্জামান দম্পতি ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করে দুদক। বিদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আনুমানিক ৫০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের সম্পত্তি রয়েছে বলে আল-জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দুদক বলেছে, এ মামলার তদন্তের মাধ্যমে আরও তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন