
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন এই তিনটি বিষয় একে অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিচারেও টাইম লিমিট করা যাবে না, তাতে অবিচার হবে। যে সরকারই আসুক, বিচার চলবে। তবে নির্বাচনকে শর্তসাপেক্ষ করা যাবে না। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি চায় নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হোক, যেন দেশে অনিশ্চিত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যদি তাদের সুযোগ দেওয়া হয়, তারা শুধু জাতীয় জীবন ও নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি সবচেয়ে বেশি অবিচারের শিকার হয়েছে দাবি করে সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। বিচার চলবে এটি আমাদের এবং জাতির অঙ্গীকার। কিন্তু নির্বাচন কোনোভাবেই বিলম্বিত বা বাতিল করা যাবে না।
প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “এখানে দুটি আঞ্চলিক শক্তি আছে। বাংলাদেশকে আমরা কোনো অস্থিতিশীল অবস্থানে নিতে চাই না। নির্ধারিত টাইমলাইনে নির্বাচন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১৯টি মৌলিক বিষয় এবং ৮২৬টি ছোট-বড় সংস্কার প্রস্তাব কমিশনে জমা হয়েছে। এর মধ্যে ৫১টি প্রস্তাবে বিএনপি দ্বিমত পোষণ করেছে এবং ১১৫টি প্রস্তাবে ভিন্নমতসহ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রায় চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, আইনি ভিত্তি নিয়ে আলোচনায় আমরা অংশ নেবো এবং ইতোমধ্যে লিখিত মতামত দিয়েছি। যেসব বিষয় ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ হয়ে যেতে পারে, সেগুলো চূড়ান্ত প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত না করার পরামর্শ দিয়েছি।
তিনি আরও যোগ করেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন জটিলতা বা অস্থিরতা না হয়, সেদিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রসিডিউরের কারণে কিছুটা সময় লাগলেও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হবে।
মন্তব্য করুন