
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়েনারের পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল করেছেন। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে শাবানা মাহমুদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শাবানা মাহমুদ অভিবাসন ইস্যুতে লেবার দলের মধ্যে কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত। তাই অবৈধ অভিবাসন ও শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে (ফাইভ আইজ বা ‘পঞ্চনেত্র’) একটি চুক্তিতে পৌঁছান। এর উদ্দেশ্য হলো যেসব নাগরিকের অন্য দেশে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।
চুক্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রত্যেক দেশকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে। যারা এ বিষয়ে গড়িমসি করবে, তাদের নাগরিকদের ভিসা প্রদানে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে।
শাবানা মাহমুদ বলেন, “আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। বৈধ অধিকার ছাড়া যুক্তরাজ্যে কেউ থাকলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। আর কোনো দেশ যদি তাদের নাগরিকদের নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পাচারকারীরা প্রায়ই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হবে।
১৯৮০ সালে বার্মিংহামে জন্ম নেওয়া শাবানা মাহমুদের আদি নিবাস পাকিস্তানে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতক শেষ করে তিনি ব্যারিস্টারি করেন। ২০১০ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে ধীরে ধীরে তিনি দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।
২০২৪ সালে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর তিনি লর্ড চ্যান্সেলর ও জাস্টিস সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ পান। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন।
মন্তব্য করুন