
একসময় দেশের খেলাধুলার পরিসর মানেই ছিল ফুটবল, ক্রিকেট, কুস্তি কিংবা বক্সিং। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে দ্রুত প্রসার লাভ করেছে কোরিয়ান মার্শাল আর্ট তায়কোয়ান্দো। বর্তমানে কিন্ডারগার্টেনের শিশু থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী তরুণ-তরুণীরা এই খেলায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
মূলত আত্মরক্ষা, শারীরিক ফিটনেস ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য তায়কোয়ান্দো শেখার প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। কোরিয়ান শব্দে ‘তায়’ মানে পা, ‘কোয়ান’ মানে হাত আর ‘দো’ মানে পথ বা শৃঙ্খলা। এর ফলে খেলাটি শুধু শারীরিক কৌশল নয়, বরং ব্যক্তিত্ব ও মানসিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে।
বনানী তায়কোয়ান্দো ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা নুরুদ্দিন হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, “তরুণ-তরুণীদের মধ্যে তায়কোয়ান্দো শেখার আগ্রহ এখন অনেক বেড়েছে। অলিম্পিকে এর অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ফলে এই খেলাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা, মানসিক শৃঙ্খলা এবং আত্মরক্ষার কৌশল শেখার জন্য এটি অন্যতম মাধ্যম।”
তিনি আরও বলেন, “তায়কোয়ান্দোর গতিশীল ও আকর্ষণীয় কিক কৌশলগুলো তরুণদের বিশেষভাবে টানে। এটি শরীরকে ফিট রাখার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি বাড়ায়। ফলে অন্যান্য মার্শাল আর্টের তুলনায় তায়কোয়ান্দো এখন বেশি জনপ্রিয়।”
বর্তমানে ছয় থেকে ৮০ বছর বয়সী নারী-পুরুষের জন্য তায়কোয়ান্দো শেখা সম্ভব, যা একে আরও সহজলভ্য ও বহুল গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আত্মরক্ষা ও শৃঙ্খলার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করায় বাংলাদেশের খেলাধুলার অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে তায়কোয়ান্দো।
মন্তব্য করুন