
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেছেন যে, মহেশখালী-মাতারবাড়ী এলাকায় শুধু একটি গভীর সমুদ্রবন্দরই নয়, বরং একটি আধুনিক নতুন শহর গড়ে উঠবে। তিনি বলেছেন, সেখান থেকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটি তৈরি হবে এবং সমুদ্র হবে বিশ্বের পথে বাংলাদেশের মহাসড়ক।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ ভিশন তুলে ধরেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মিডার চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক ও মো. সারোয়ার আলম এবং প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না।
বৈঠকে মহেশখালী-মাতারবাড়ী প্রকল্পের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন দেন মিডার চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ। তিনি জানান, প্রকল্পটি তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের জিডিপিতে যুক্ত হবে প্রায় দেড়শ’ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, শুধু বন্দর নয়, আমাদের একটি ব্লু ইকোনমি গড়ে তোলার ভিশন থাকতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ট্রেইনিং ফ্যাসিলিটি প্রয়োজন। তিনি বিশ্বসেরা বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় মহেশখালী অঞ্চলে গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা কখনো সমুদ্র জগতে প্রবেশ করিনি। এ বিষয়ে গবেষণা নেই, ফাইন্ডিংস নেই। এজন্য আমাদের একাডেমিয়া গড়ে তুলতে হবে এবং ওশান ইকোনমি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করতে হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে ইকো-ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনের প্রস্তাবও আলোচনা হয়। তিনি বলেন, “সেখানে বনভূমির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে।”
মন্তব্য করুন