
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) একদিনেই অন্তত ১০৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শুধু গাজা সিটিতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৫০ জনের বেশি, যাদের অনেকেই ত্রাণ সংগ্রহে গিয়েছিলেন। এদিন থেকে গাজা সিটিতে স্থল অভিযানও শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। খবর আল জাজিরা।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ আল-সাবরা মহল্লায়। সেখানে নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২ জন ছিলেন সাহায্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাধারণ মানুষ। আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খুদারি জানান, গাজার মানুষ খাঁচায় বন্দির মতো বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। তারা যেখানে যায়, বোমা হামলা তাদের অনুসরণ করছে।
অবরোধের কারণে গাজায় খাবার ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবারই অনাহারে মারা গেছেন আরও ১৩ জন। ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্ষুধাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬১ জনে।
এ ছাড়া খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় পানির লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন ২১ জন, যাদের মধ্যে সাত শিশু ছিল। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, পানি সংগ্রহে আসা মানুষদের টার্গেট করে সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে এটি নতুন এক হত্যাযজ্ঞ।
গাজা সিটিতে আল-আফ পরিবারের বাড়িতে এক হামলায় নিহত হয়েছেন ১০ জন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। গাজার সরকারি গণমাধ্যম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি ইসরায়েলের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের প্রমাণ। যুক্তরাষ্ট্রকেও এ ধরনের হামলার জন্য দায়ী করে বিবৃতিতে একে যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়।
মঙ্গলবার আরও দুই সাংবাদিক—আল-মানারার রস্মি সালেম ও ইমান আল-জামলি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০ জনের বেশি।
স্থল অভিযানে অগ্রসর হতে ইসরায়েল সেনাবাহিনী হাজার হাজার রিজার্ভ সদস্যকে ডেকেছে। তবে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, এরই মধ্যে অন্তত ৩৬৫ সেনা ডাকে সাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হলেও ইসরায়েল কোনো সাড়া দেয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, গাজা দখলের পরিকল্পনা সবার জন্য হুমকি ডেকে আনবে, ইসরায়েলি বন্দিদের জন্যও।
এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুদ্ধাপরাধের আসামি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আমরা হামাসকে পরাজিত করার জন্য লড়ছি।
মন্তব্য করুন