
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন শিক্ষিকা নিশি আক্তার দীর্ঘ ৩৪ দিন পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
নিশি আক্তার মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষিকা। তাকে একুশবার অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিতে হয়েছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে পাঁচবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এত কষ্টকর চিকিৎসা প্রক্রিয়ার পর তিনি সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেন।
একই ঘটনায় এখনো বার্ন ইনস্টিটিউটে ২১ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন, যাদের সবাই শিশু। তাদের মধ্যে দুই-তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও বাকিদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক ডা. মো. মারুফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, এ দুর্ঘটনায় মোট ৫৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জন শিক্ষার্থী মারা গেছেন। ইতিমধ্যে ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে এখনো চিকিৎসাধীন শিশুদের অধিকাংশের নিশি আক্তারের মতো অপারেশন লেগেছে এবং আরও কয়েকজনকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ছাড়পত্র দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. মারুফুল ইসলাম বলেন, আমাদের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা টানা ৩৬ দিন ধরে ছুটি ছাড়াই কাজ করছেন। প্রতিদিনই রোগীদের মানসিক অবস্থার উন্নতির জন্য সাইকিয়াট্রিস্টরা কাউন্সিলিং করছেন। এই দুর্ঘটনা শুধু রোগী নয়, চিকিৎসক ও স্বজনদেরও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
তিনি চিকিৎসক দলের আন্তরিকতা ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
মন্তব্য করুন