
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও মানসম্মত করতে নতুন করে ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব ক্লিনিকে প্রায় ১৩ হাজার ৯৮৯ জন নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এর অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
বুধবার (২০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে বিএমআরসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানান কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আখতারুজ্জামান।
তিনি বলেন, “প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য বা ৩০ মিনিট হাঁটার দূরত্বে একটি ক্লিনিক থাকার কথা ছিল। কিন্তু পাহাড়ি, হাওর কিংবা চর অঞ্চলে এখনও ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের জন্য একটি ক্লিনিক কাজ করছে। এই ঘাটতি পূরণেই নতুন ক্লিনিক নির্মাণ করা হবে।”
জমি দানকারীদের অগ্রাধিকার: নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমি দেওয়ার আবেদন নেওয়া হচ্ছে। নোটারি করা স্ট্যাম্পে জমি দিতে আগ্রহীরা আবেদন করলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
জনবল ও বাজেট: চলতি অর্থবছরে ৪২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে জনবল নিয়োগের জন্য। পাশাপাশি ১২০ কোটি টাকার ওষুধ ইতোমধ্যে ক্রয় করা হয়েছে এবং আরও ২০০ কোটি টাকার ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ট্রাস্টের পরিচালক (মাঠ প্রশাসন) ডা. আসিফ মাহমুদ জানান, শুধু সেবা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য নিজস্ব ভবন, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঝুঁকিপূর্ণ ক্লিনিকগুলোর পুনঃনির্মাণ এবং ডিজিটাল রেফারেল সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ: কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জানান, এখানে মূলত প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও সাধারণ ওষুধের চিকিৎসা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপদভাবে স্বাভাবিক প্রসব সেবা দিতে সক্ষম।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন