পার্বত্যাঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে সেনাসদস্যরা।
বান্দরবান ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও এরিয়া কমান্ডার কর্নেল মির মরশেদ, এসপিপি, পিএসসি–এর নেতৃত্বে রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় বন্যায় পানিবন্দি অসহায় ও গরিব পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও আশ্রয় সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মাইনিমূখ ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম জারুল বাগান, এফআইডিসি টিলা, বড় কলোনি পাড়া, মতিন টিলা, মুরুব্বি টিলা, মাদ্রাসা টিলা, কুতুবটিলা ও শেখ পাড়া এলাকায় এ কার্যক্রম চলে।

সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় এসব এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় ৮০টি পরিবার, মোট তিন শতাধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। সেনাবাহিনী এসব আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য রান্নার জ্বালানি, বিশুদ্ধ পানি, নিরাপত্তা টহল এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেছে। শিশু ও প্রবীণদের জন্য আলাদা যত্নের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
১. চাল
২. চিড়া
৩. গুড়
৪. বিস্কুট
৫. খাবার স্যালাইন
এছাড়া দুর্গম ও পানিবন্দি গ্রামে নৌকার মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয় এবং যাতায়াতের জন্য অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। অসুস্থদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
কর্নেল মির মরশেদ বলেন, “পাহাড়ে বহুদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার। দুর্গত মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আমাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

মেজর রিফাতউদ্দিন আহমেদ লিওন, লংগদু জোন, ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ আলামিন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী ও এলাকাবাসী এছাড়াও ত্রাণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন লংগদু জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম আহসানুল আলম, পিএসসি; মেজর মোহাম্মদ এলিয়াস; মেজর ইসমাইল ফারুক; ক্যাপ্টেন রুবায়েত ইসলাম; ক্যাপ্টেন মাহমুদ হাসান; লেফটেন্যান্ট রুহুল আমিনসহ সেনাবাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
ত্রাণ পেয়ে স্থানীয়রা সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং কর্নেল মির মরশেদের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন