
ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪–এর পর বহুল প্রত্যাশিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আজ (মঙ্গলবার) আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত “জুলাই পুনর্জাগরণ” অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। সরাসরি সম্প্রচার করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন।
ঘোষণাপত্রে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ১১৪ জনকে ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যৎ নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন এবং টেকসই রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
ড. ইউনূসের পাঠ করা ঘোষণাপত্রের ২৮ দফায় তুলে ধরা হয়—
বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা যুদ্ধ, একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, সামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী গণ-আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পর্যন্ত সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। এতে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম-খুন, দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ তাদের সার্বভৌমত্বের প্রয়োগ করেছে এবং শেখ হাসিনার পতনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা করেছে। দেশের সর্বস্তরের জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত হয়েছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যা নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিশ্চিত করবে।
ঘোষণাপত্রের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো—
এছাড়া ঘোষণাপত্রে বিদেশি হস্তক্ষেপ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক কাঠামোয় বৈষম্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কারের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ছাত্র, তরুণ, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ জনগণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা হাততালি ও স্লোগানে ঘোষণাপত্রের প্রতি সমর্থন জানান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে সংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পথে এগিয়ে নেবে এবং আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর ভিত গড়ে দেবে।
মন্তব্য করুন