
দেশের ছোট পর্দার পরিচিত মুখ আরশ খান। ক্যারেক্টার আর্টিস্ট হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত হলেও, বাস্তবে তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন—তিনি এই ইন্ডাস্ট্রির একজন লড়াকু সৈনিক। সম্প্রতি “কালবেলা”-এর সঙ্গে একান্ত আলাপে আরশ খান তুলে ধরেছেন অভিনয় জীবনের বাস্তবতা, শিল্পীদের লড়াই, সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং নিজের অবস্থান নিয়ে অকপট কিছু কথা।
বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে আরশ খান বলেন, “এখনকার সময়টা অভিনয় নিয়েই কাটছে। সামনে কিছু নাটকের শুটিং চলছে, আরও কিছু প্রজেক্ট আলোচনায় আছে। অভিনয়ই আমার ভালোবাসা, সেটাই করতে চাই।”
নিজের পরিচয় নিয়ে তিনি বলেন, “আমি নিজেকে কখনো জুনিয়র বলিনি। আমি একজন ক্যারেক্টার আর্টিস্ট এবং এ পরিচয় নিয়ে আমি গর্বিত। তবে বাস্তবতা হলো, আমাদের প্রতিনিয়ত টিকে থাকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত শিখতে হচ্ছে, না হলে জায়গা ধরে রাখা কঠিন।”
টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন প্রসঙ্গে আরশ খান বলেন, “আগে যেখানে ১০০টি কাজ হতো, এখন হচ্ছে ৪০টি। কাজ কমে গেছে, অথচ শিল্পীদের সংখ্যা কমেনি। এখন একটি চরিত্রের জন্য আটজন লড়াই করছেন। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সিনিয়র শিল্পীদের, যারা একসময় এই ইন্ডাস্ট্রির ভিত গড়ে দিয়েছিলেন।”
শিল্পী নির্বাচনে ‘পলিটিকস’ (রাজনীতি) থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, “ডিরেক্টর যদি মনে করেন আপনি তার সঙ্গে কমফোর্টেবল, তাহলে আপনাকে নেবেন। নাহলে আপনার জায়গা চলে যাবে অন্য কারও কাছে। আগে আমিও সাজেশন দিতাম, কিন্তু এখন বুঝি, এতে অন্যের রুটি-রুজি ক্ষতি হয়।”
সিন্ডিকেট ও মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে আরশ খান বলেন, “গ্রামে যে শাক ৫ টাকায় বিক্রি হয়, শহরে এসে সেটা হয় ৫০ টাকা। এটা সিন্ডিকেট ছাড়া আর কিছু নয়। মাঝখানের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট না ভাঙলে কিছুই বদলাবে না। মানুষকে ভেলকির চোখে ফেলে বলছে দাম কমেছে, অথচ আসলে তারা বিশাল লাভ করছে।”
নিজের আসন্ন কাজ প্রসঙ্গে আরশ খান বলেন, “নতুন কিছু নাটক আসছে, তবে নাম বললে সমস্যা হতে পারে, কারণ আমার সবাই খুব আপন মানুষ। দর্শকদের বলব, আমার সাম্প্রতিক কাজগুলো একটু খোঁজ নেন, সবখানেই কিছু না কিছু বেরোচ্ছে।”
নতুন নায়িকাদের আগমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি কারও ক্যারিয়ার বানাইনি। শুধু চেষ্টা করেছি কাজের সময় একটা কমফোর্ট জোন তৈরি করার। যেন ১০ বছর পর কেউ বলতে না পারে, আরশ খান তার পাশে ছিল না।”
শিল্পীদের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে আরশ খান বলেন, “শিল্পীরা দুর্বল নয়, কেউ সফল, কেউ অপেক্ষায়। কিন্তু সবাইকেই সম্মান করা উচিত। ক্যারেক্টার আর্টিস্টদের পরিশ্রমও কম নয়, কিন্তু অনেক সময় মূল্যায়নটা পাই না।”
মন্তব্য করুন