
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ও বিমান হামলায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক। জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের (OHCHR) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন শুধুমাত্র খাবার সংগ্রহের সময়। নিহতদের মধ্যে ৭৬৬ জন মারা গেছেন বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটোরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোর আশপাশে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলমান সংঘাত ও অবরোধের কারণে খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তাহীনতায় চরম সংকটে রয়েছে গাজার জনগণ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে ১০১ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন অনাহারে, যাদের অধিকাংশই শিশু।
মানবিক সংগঠন মেড গ্লোবালের নির্বাহী পরিচালক জোসেফ বেলিভো বলেন,”এটি এক মানবসৃষ্ট বিপর্যয়। শিশুরা মারা যাচ্ছে শুধুমাত্র খাবার কিংবা চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে।”
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানিয়েছে, গাজায় বর্তমানে প্রায় এক লাখ নারী ও শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছেন। এদের মধ্যে প্রতি তিনজনের একজন নিয়মিতভাবে দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
এমন মানবিক সংকটের মধ্যেই মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হন। এর মধ্যে শাতি শরণার্থী শিবিরে এক হামলায় ১২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু ও তিনজন নারী রয়েছেন। একই দিনে ত্রাণ সংগ্রহের সময় ভিড় করা সাধারণ মানুষের ওপর চালানো আরেকটি বিমান হামলায় ৮ জন নিহত ও ১১৮ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ চলমান থাকলেও মানবিক করিডোর চালু না হওয়া, পর্যাপ্ত খাদ্য ও ওষুধ না পৌঁছানো এবং অবরোধের কারণে এই অঞ্চলে “ধ্বংসাত্মক মানবিক সংকট” তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই এ অবস্থার তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন