
১৩ জুলাই ২০২৫, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১০৭ কোটি মার্কিন ডলার (১.০৭ বিলিয়ন), যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২১ টাকা ধরে)। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, মাস শেষে এ রেমিট্যান্স ২৭৬ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
রোববার (১৩ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, “ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার, হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি, সরকারের প্রণোদনা ও আর্থিক ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে প্রবাসী আয়ে এ ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে এ আয় ছিল ২৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার। এটি দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।
প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্বস্তি ফিরেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে এ অঙ্ক ছিল ২৬.৭১ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী চলতি অর্থবছর শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬.৬৬ বিলিয়ন ডলারে, যা গত অর্থবছরের ২১.৬৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের মিডিয়াম টার্ম ম্যাক্রোইকোনমিক পলিসি স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। প্রাক্কলনে বলা হয়েছে, এ সময় রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে ৮–১০ শতাংশ এবং আমদানিতে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এ ধারা বজায় থাকলে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং ডলারের বাজারে স্বস্তি বজায় থাকবে। পাশাপাশি চলমান বৈদেশিক চাপ কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে।
মন্তব্য করুন