
১২ জুলাই ২০২৫- আগস্টের মাঝামাঝি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের সূত্র বলছে, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষ হওয়ার পর তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি শুরু হবে। এ নিয়ে এখন উত্তাল ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থী ও সংগঠনগুলোর নজর এখন তফসিল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের দিকেই।
ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যেই ছাত্র সংগঠনগুলো সক্রিয় হয়েছে। তারা ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার পক্ষে প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিচ্ছে, হলে হলে চালাচ্ছে শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম এবং অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের সক্রিয়তা জানান দিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেল ঘোষণা করেনি। প্যানেল গঠন নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, অভ্যন্তরীণ দরকষাকষি ও কৌশলগত নীরবতা।
এদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে—এবারের নির্বাচনে কে থাকছেন, কারা হবেন ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী?
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করা কিছু নেতার নাম হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। তারা সংগঠনভুক্ত বা স্বতন্ত্র উভয়ভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেন।
আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে আছেন-
১। আবিদুল ইসলাম খান, ছাত্রদলের ঢাবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
২। মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামি, ছাত্রদল ঢাবির দপ্তর সম্পাদক
৩। তানভীর বারী হামিম, কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক
৪। উমামা ফাতেমা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ও ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক
৫। আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) ঢাবি শাখার আহ্বায়ক
৬। আবু বাকের মজুমদার, বাগছাস কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক
৭। জাহিদ আহসান, বাগছাস কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যুত্থানের সময় যেসব ছাত্রনেতা মাঠে সক্রিয় ছিলেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তারা এবার ডাকসু নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তবে চূড়ান্ত চিত্র জানতে অপেক্ষা করতে হবে তফসিল ঘোষণার পর পর্যন্ত। এখন দেখার বিষয়, কে প্রথমে নিজের প্যানেল ঘোষণা করে নির্বাচনী মাঠে নামেন এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনে কে এগিয়ে যান।
মন্তব্য করুন