
কিয়েভ, ১০ জুলাই: রাশিয়া ইউক্রেনে চালিয়েছে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিমান হামলা। বুধবার মধ্যরাতে শুরু হওয়া এই আক্রমণে ৭২৮টি ড্রোন এবং ১৩টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি।
কিয়েভে অবস্থানরত এএফপি’র সাংবাদিকরা জানান, গভীর রাতে আকাশে ড্রোনের গর্জন ও ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দে রাজধানী কেঁপে ওঠে। হামলায় খমেলনিতস্কি অঞ্চলে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে রাশিয়ার ৫৫০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার রেকর্ড এবার ভেঙে গেছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই হামলা এমন এক সময় চালানো হলো, যখন আমরা শান্তি ও যুদ্ধবিরতির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি। কিন্তু কেবল রাশিয়াই এই প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে চলেছে।
হামলার সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে ইউক্রেনে অস্ত্র সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। মার্কিন গণমাধ্যম বলছে, ট্রাম্প হয়তো ওই স্থগিতাদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন না।
তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি নিজের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, পুতিন সবসময় আমাদের ভালো ব্যবহার করলেও, এটা এখন অর্থহীন। তিনি শুধু মানুষ হত্যা চালিয়ে যেতে চান। এটা মোটেই ভালো নয়।
রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন,মস্কো ট্রাম্পের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানাবে না। ট্রাম্প সাধারণত যেভাবে কথা বলেন, তার ভাষা অনেকটা কর্কশ।
জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়নি। তবে কিয়েভকে সামরিক সহায়তা ফের চালুর ফলে ইউক্রেন ১০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার টানা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে আত্মরক্ষায় ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিয়েভ ছাড়াও পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলো নিয়মিত রুশ হামলার শিকার হচ্ছে।
এই সর্ববৃহৎ হামলা কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা বাড়ায়নি, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী অবস্থান ও রাশিয়ার প্রতি চাপ বাড়ানো নীতিই হয়তো ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় গতি আনতে পারে।
মন্তব্য করুন