
কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা দুদিনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ফলে চট্টগ্রামের ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে আটকা পড়েছে প্রায় ১৪ হাজার রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার। এতে রপ্তানিমুখী শিল্প বিশেষ করে পোশাকশিল্প মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
কাস্টমসের অনুমোদন না থাকায় বন্দরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। গত রোববার সন্ধ্যায় কর্মসূচি প্রত্যাহার হলেও শুল্কায়ন না হওয়ায় তিনটি কনটেইনারবাহী জাহাজ নির্ধারিত সময়ে বন্দর ছাড়তে পারেনি।
১। ‘হং ডা জিন-৬৮’: এক হাজার ৬৬৬ টিইইউ কনটেইনার নিয়ে আটকা এনসিটি-৩ নম্বর বার্থে।
২। ‘এক্সপ্রেস নিলওয়ালা’: এক হাজার ৪৬০ টিইইউ কনটেইনার নিয়ে এনসিটি-৫ নম্বর বার্থে আটকা।
৩। ‘এএস সিসিলিয়া’: ৫৬৪ টিইইউ কনটেইনার নিয়ে সিঙ্গাপুরগামী জিসিবি-৮ জেটিতে বসে।
এই জাহাজগুলোর কনটেইনার ইউরোপ ও আমেরিকায় পাঠানোর সিডিউল ছিল, যা এখন আর সময়মতো সম্ভব নয়।
পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর পরিচালক এসএম আবু তৈয়ব বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠানের কনটেইনারও বন্দরে আটকা পড়েছে। এতে শিডিউল মিস হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে পারছি না। পাশাপাশি জাহাজের ডেমারেজও আমাদের বহন করতে হবে, যা পুরো শিল্পে আর্থিক চাপ বাড়াবে।”
শাটডাউন কর্মসূচির কারণে আমদানি পণ্য খালাসও সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। বন্দর থেকে পণ্য খালাস ও রপ্তানি কার্যক্রম কাস্টমসের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়। শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত কাস্টমস অফিস তালাবদ্ধ থাকায় কোনো নথি প্রক্রিয়াজাত করা যায়নি।
বন্দর সূত্র জানিয়েছে, কাস্টমস কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট এই জটিলতা দেশের রপ্তানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বিকল্প পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
রপ্তানি খাতে এমন অচলাবস্থা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে বড় আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছেন সবাই।
মন্তব্য করুন