
জেরুজালেম, ১৮ জুন: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দাবি করে আসছেন, ইরান খুব দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে। তার এই সতর্কবার্তা গত তিন দশকে বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে, যা এখনো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয়বস্তু।
১৯৯২ সালে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে প্রথমবার তিনি বলেছিলেন, ‘আর তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরিতে সক্ষম হয়ে যাবে।’ একই দাবি তিনি ১৯৯৫ সালের বই ফিশিং টেরোরিজম বইতেও করেন।
২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি ইরাক ও ইরান উভয়কেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দৌড়ে রয়েছে বলে দাবি করেন। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালালেও সেখানে কোনো গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সন্ধান মেলেনি।
২০০৯ সালে উইকিলিকসের প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক বার্তায় জানা যায়, নেতানিয়াহু কংগ্রেস সদস্যদের কাছে বলেছেন—ইরান এক-দুই বছরের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করবে।
২০১২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তৃতা দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু একটি বোমার কার্টুন দেখিয়ে দাবি করেছিলেন, ইরান শিগগিরই চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করবে। তিনি বলেছিলেন, “পরবর্তী বসন্ত বা সর্বোচ্চ গ্রীষ্মের মধ্যেই তারা মধ্য-পর্যায়ের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ শেষ করবে।”
নেতানিয়াহু এখনো একই দাবি করছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, “যদি থামানো না হয়, তাহলে ইরান মাস বা সপ্তাহের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।”
তবে নেতানিয়াহুর দাবির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালের মার্চে মার্কিন কংগ্রেসে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না এবং তাদের সর্বোচ্চ নেতা ২০০৩ সালে এই কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নেতানিয়াহুর সতর্কবার্তাগুলো কূটনৈতিক এবং সামরিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থান শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
বিশ্ববাসী এখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন