
জেরুজালেম, ১৫ জুন: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে প্রাণ রক্ষায় ইসরায়েলের ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড অ্যাপ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর এই অ্যাপ ব্যবহার করে বেসামরিক নাগরিকদের আগাম সতর্কতা প্রদান করা হচ্ছে, যা প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সহায়তা করছে।
ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, ইরান থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর ইসরায়েলে পৌঁছাতে সাধারণত ১০ মিনিট সময় লাগে। তবে, সামরিক বাহিনী ইরানের প্রস্তুতির ভিত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কয়েক মিনিট আগেই সতর্ক সংকেত পাঠাতে সক্ষম।
এই সংকেত পাওয়ার পর বোম্ব শেল্টারে পৌঁছানোর জন্য নাগরিকরা প্রায় ১৫-৩০ মিনিট সময় পান। এ ছাড়া, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ৯০ সেকেন্ড আগে সাইরেন বাজানো হয়। তখন নাগরিকদের তাৎক্ষণিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে প্রবেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ইসরায়েলে ঘরবাড়ি নির্মাণে পরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বোমা প্রতিরোধী কক্ষ তৈরির কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলক কম। যাঁদের বাড়িতে এই ধরনের কক্ষ নেই, তাঁদের হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত বোম্ব শেল্টারে যেতে বলা হচ্ছে।
সামরিক বাহিনী জানায়, ভূগর্ভস্থ পার্কিংয়ের জায়গা শুধুমাত্র তখনই বোম্ব শেল্টার হিসেবে বিবেচিত হবে, যদি সেগুলো বিশেষভাবে উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়।
শুক্রবার রাতে ইরান বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নেয়। এই পরিস্থিতিতে হোম ফ্রন্ট কমান্ড থেকে নাগরিকদের বোম্ব শেল্টারের কাছাকাছি থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবার বিকেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে এই নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়।
যদি নতুন কোনো হামলার আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে আগের নিয়ম মেনে একই ধরনের সতর্কতা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েল আগাম সতর্কতা, আধুনিক প্রযুক্তি, এবং সুরক্ষামূলক স্থাপনার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করেছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান এই সংঘাত কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ইসরায়েলের পরিকল্পিত পদক্ষেপগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
মন্তব্য করুন