
কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপারডনেস (ইআরপিপি) প্রকল্পের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত আউটসোর্সিং কর্মীরা স্থায়ীকরণ এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। শনিবার সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে কর্মসূচি শুরু করেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ১০০৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, কোভিড-১৯ মহামারির সময় তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছেন। অথচ প্রকল্প শেষে তাদের চাকরির কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। উপরন্তু, মাসের পর মাস বেতন না পেয়েও তারা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে গেছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারিভাবে নিয়োগ পেলেও তাদের চুক্তিভিত্তিক আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
“মহামারির সময় আমরা পিপিই পরে কাজ করেছি, পরিবার ছেড়ে আইসোলেশনে থেকেছি, ঈদেও বাড়ি যাইনি,” বলেন আন্দোলনরত এক কর্মী। “এখন পাঁচ বছর পর আমাদের বেতন ও চাকরির স্থায়িত্বের বিষয়টি নিয়ে আশ্বস্ত করার বদলে নতুন লোক নিয়োগের চেষ্টা চলছে।”
বিক্ষোভকারীরা জানান, তাদের অনেকের বয়স এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সরকারি চাকরিতে আর আবেদন করার সুযোগ নেই। তারা বলেন, “দেশসেবার শাস্তি হিসেবে আমাদের এখন অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে।”
ইআরপিপি প্রকল্পে ১০০৪ জন কর্মীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন:
তাদের মধ্যে ২৫৯ জন রাজধানীতে, ১৫৩ জন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে, এবং ৫৯২ জন জেলা শহরে কোভিড ও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় কর্মরত ছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের মার্চ থেকে ইআরপিপি প্রকল্পে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে তাদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত বাড়ানো হলেও কর্মীদের জানুয়ারি থেকে বেতন দেওয়া হয়নি।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তারা নিয়মিত কাজ করেছেন এবং হাজিরাশিট যথাযথভাবে পাঠিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহল নতুন লোক নিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে।
আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। একইসঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন যে, নতুন করে দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়ার সময় এই দক্ষ জনবলকে কাজে না লাগালে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।
মন্তব্য করুন